বার্ধক্য, বিধবা ও দিব্যাঙ্গ ভাতা বেড়ে ১৫০০ টাকা, আজ থেকেই শুরু টাকা পাঠানো

- Advertisement -

পশ্চিমবঙ্গে বার্ধক্য, বিধবা ও দিব্যাঙ্গ ভাতার পরিমাণ বাড়িয়ে মাসে ১,৫০০ টাকা করা হয়েছে। আগে এই ভাতা ছিল ১,০০০ টাকা। ৭ সেপ্টেম্বর থেকে বর্ধিত হারে টাকা পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রায় ৬০ লক্ষের বেশি উপভোক্তা উপকৃত হবেন। DBT-এর মাধ্যমে সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছবে। নতুন উপভোক্তাদেরও যাচাই করে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। পাশাপাশি বিধবা ভাতার ক্ষেত্রে বিশেষ বিকল্পও রয়েছে।

বার্ধক্য, বিধবা ও দিব্যাঙ্গ ভাতা বেড়ে ১৫০০ টাকা, আজ থেকেই শুরু টাকা পাঠানো

পুজোর আগে রাজ্যের প্রবীণ, বিধবা এবং বিশেষভাবে সক্ষম নাগরিকদের জন্য বড় স্বস্তির খবর। পশ্চিমবঙ্গে বার্ধক্য ভাতা, বিধবা ভাতা এবং দিব্যাঙ্গ ভাতার পরিমাণ বাড়িয়ে মাসে ১,৫০০ টাকা করা হয়েছে। এতদিন এই তিন ধরনের সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পে মাসিক ১,০০০ টাকা করে দেওয়া হত। অর্থাৎ নতুন সিদ্ধান্তে প্রত্যেক যোগ্য উপভোক্তা মাসে অতিরিক্ত ৫০০ টাকা পাবেন। ৭ সেপ্টেম্বর থেকেই বর্ধিত হারে ভাতার টাকা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

সরকারি সূত্রের খবর, প্রায় ৬০ লক্ষেরও বেশি মানুষ এই বর্ধিত ভাতার আওতায় আসবেন। এর মধ্যে রাজ্য সরকারের সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সরকারের ন্যাশনাল সোশ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স প্রোগ্রামের আওতাভুক্ত উপভোক্তারাও রয়েছেন। সমস্ত টাকা সরাসরি উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে। প্রশাসনের লক্ষ্য, টাকা পাঠানোর কাজ দ্রুত শেষ করে যোগ্য উপভোক্তাদের হাতে বর্ধিত ভাতার অর্থ পৌঁছে দেওয়া।

এক হাজার থেকে বেড়ে দেড় হাজার

সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের অধীনে দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্য, বিধবা এবং দিব্যাঙ্গ ভাতা হিসেবে মাসে ১,০০০ টাকা করে দেওয়া হচ্ছিল। নতুন সিদ্ধান্তে সেই অর্থ ৫০ শতাংশ বাড়িয়ে ১,৫০০ টাকা করা হয়েছে। সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে মাসিক আয়ের সীমিত উৎস থাকা বহু প্রবীণ, বিধবা এবং বিশেষভাবে সক্ষম মানুষের আর্থিক সহায়তা কিছুটা বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।

সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, বর্ধিত ভাতা কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল আগেই। ১ আগস্ট ২০২৬ থেকে নতুন হার কার্যকর হওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছিল। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সেপ্টেম্বর মাসে বর্ধিত হারে টাকা পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

DBT-এর মাধ্যমে সরাসরি অ্যাকাউন্টে টাকা

ভাতার টাকা পাওয়ার ক্ষেত্রে উপভোক্তাদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, অর্থ সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হচ্ছে। অর্থাৎ Direct Benefit Transfer বা DBT ব্যবস্থার মাধ্যমে সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এর ফলে মাঝখানে কোনও মধ্যস্থতাকারীর প্রয়োজন হবে না। প্রশাসনের কাছে থাকা যাচাই করা তথ্যের ভিত্তিতে যোগ্য উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো হবে। যাঁদের অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত তথ্য বা নথিতে সমস্যা রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে টাকা পেতে দেরি হতে পারে।

নতুন উপভোক্তাদেরও সুযোগ

শুধু পুরনো উপভোক্তারাই নন, সরকারি জনকল্যাণ শিবিরের মাধ্যমে নতুন করে আবেদন করা বহু মানুষকেও এবার সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রায় সাড়ে সাত লক্ষ নতুন আবেদনকারীকে যাচাইয়ের পর সুবিধা দেওয়ার প্রক্রিয়া নেওয়া হয়েছে।

তবে নতুন ব্যবস্থায় যোগ্যতার বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, যাচাই-বাছাইয়ের পর প্রকৃত যোগ্য ব্যক্তিদেরই ভাতা দেওয়া হবে। ফলে আবেদন করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে টাকা পাওয়া যাবে—এমনটা নয়।

পুরনো ওয়েটিং লিস্ট নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত

ভাতা সংক্রান্ত ব্যবস্থায় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের কথা সামনে এসেছে। আগের সরকারের সময়ে তৈরি হওয়া ওয়েটিং লিস্ট বাতিল করে নতুন করে যোগ্য উপভোক্তাদের তালিকা তৈরি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন। প্রশাসনের বক্তব্য, ভুয়ো বা অযোগ্য নাম বাদ দিয়ে প্রকৃত সুবিধাভোগীদের তালিকা তৈরি করাই এর উদ্দেশ্য।

জনকল্যাণ শিবির বা অন্যান্য সরকারি ব্যবস্থার মাধ্যমে যাঁরা আবেদন করেছিলেন, তাঁদের তথ্যও যাচাই করা হচ্ছে। যাচাই প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর যোগ্য ব্যক্তিদের নতুন তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

বিধবা ভাতা নিয়ে আরও একটি ঘোষণা

বিধবা ভাতার ক্ষেত্রে একটি অতিরিক্ত বিকল্পের কথাও সামনে এসেছে। ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সি বিধবা ভাতার উপভোক্তাদের মধ্যে যাঁরা যোগ্য, তাঁরা চাইলে ১,৫০০ টাকার বিধবা ভাতার পরিবর্তে অন্নপূর্ণা যোজনার আওতায় মাসে ৩,০০০ টাকা পাওয়ার জন্য আবেদন করতে পারবেন বলে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন। তবে এই সুবিধা নিতে হলে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে বিধবা ভাতা ছেড়ে অন্নপূর্ণা যোজনার জন্য আবেদন করতে হবে।

ফলে সংশ্লিষ্ট উপভোক্তাদের সামনে এখন দুটি প্রকল্পের সুবিধার মধ্যে নিজের পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। অবশ্য অন্নপূর্ণা যোজনার যোগ্যতা ও অন্যান্য শর্ত পূরণ করতে হবে।

পুজোর আগে আর্থিক স্বস্তি

দুর্গাপুজোর আগে ভাতার পরিমাণ বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে সামাজিক সুরক্ষার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। মূল্যবৃদ্ধির সময়ে প্রবীণ, বিধবা এবং বিশেষভাবে সক্ষম মানুষের দৈনন্দিন খরচ সামলাতে অতিরিক্ত ৫০০ টাকা কিছুটা আর্থিক সহায়তা দিতে পারে।

তবে একইসঙ্গে টাকা সঠিক সময়ে এবং নিয়মিতভাবে উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে পৌঁছনোই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত টাকা পাঠানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

সব মিলিয়ে, ১,০০০ টাকা থেকে ১,৫০০ টাকা হওয়ায় মাসিক ভাতায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি হয়েছে। এখন নজর থাকবে নতুন তালিকা তৈরির প্রক্রিয়া, যোগ্য উপভোক্তাদের যাচাই এবং আগামী দিনে নিয়মিতভাবে বর্ধিত হারে টাকা পাওয়ার ব্যবস্থার দিকে।

- Advertisement -

এই রকম আরও

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here


- Advertisement -

সাম্প্রতিক খবর

- Advertisement -