পুজোর আগে পেঁয়াজের দামে লাগাম টানতে কলকাতায় আসছে ‘কাঁদা এক্সপ্রেস’

- Advertisement -

পুজোর আগে পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণে বড় পদক্ষেপ করেছে কেন্দ্র। সরকারি বাফার স্টক থেকে পশ্চিমবঙ্গে ইতিমধ্যে প্রায় ১,৪০০ টন পেঁয়াজ সরবরাহ করা হয়েছে। ৩৫ টাকা কেজি দরে সরকারি বিক্রির পাশাপাশি কলকাতায় আরও পেঁয়াজ আনতে পাঠানো হচ্ছে ‘কাঁদা এক্সপ্রেস’। কলকাতা ও সংলগ্ন জেলাগুলিতে সরবরাহ বাড়লে খুচরো বাজারে দাম কিছুটা কমার সম্ভাবনা রয়েছে। এখন নজর বাজার দরের উপর।

পুজোর আগে পেঁয়াজের দামে লাগাম টানতে কলকাতায় আসছে ‘কাঁদা এক্সপ্রেস’

পুজোর মুখে বাজারে পেঁয়াজের দাম নিয়ে সাধারণ মানুষের উদ্বেগ বাড়ছে। গত কয়েক সপ্তাহে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পেঁয়াজের খুচরো দামে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বাজারে সরবরাহ বাড়িয়ে দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে বড় পদক্ষেপ করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। সরকারি বাফার স্টক থেকে পশ্চিমবঙ্গে পেঁয়াজ সরবরাহ শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে দ্রুত বিপুল পরিমাণ পেঁয়াজ কলকাতায় পৌঁছে দিতে রেলের মাধ্যমে পাঠানো হচ্ছে বিশেষ ‘কাঁদা এক্সপ্রেস’।

কেন্দ্রের উদ্যোগে ইতিমধ্যেই পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ১,৪০০ টন পেঁয়াজ সরবরাহ করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সরকারি ব্যবস্থাপনায় এই পেঁয়াজ সাধারণ বাজারদরের তুলনায় কম দামে বিক্রি করা হচ্ছে। নির্দিষ্ট সরকারি বিক্রয়কেন্দ্র ও মোবাইল ভ্যানের মাধ্যমে প্রতি কেজি ৩৫ টাকা দরে পেঁয়াজ বিক্রির ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর ফলে সাধারণ ক্রেতাদের পাশাপাশি উৎসবের আগে বাজারে পেঁয়াজের দাম নিয়ে যে চাপ তৈরি হয়েছে, তা কিছুটা কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

কলকাতায় পৌঁছবে ‘কাঁদা এক্সপ্রেস’

পশ্চিমবঙ্গে পেঁয়াজের সরবরাহ আরও বাড়াতে কেন্দ্রীয় বাফার স্টক থেকে রেলপথে পেঁয়াজ পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই উদ্দেশ্যে বিশেষ ট্রেন ‘কাঁদা এক্সপ্রেস’-এর ব্যবস্থা করা হয়েছে। ২৪ সেপ্টেম্বর কলকাতায় ট্রেনটি পৌঁছনোর কথা। এরপর কলকাতা এবং সংলগ্ন বিভিন্ন জেলায় প্রয়োজন অনুযায়ী পেঁয়াজ সরবরাহ করা হবে।

সরকারের লক্ষ্য, দ্রুত ও বড় পরিমাণে পেঁয়াজ বাজারে পৌঁছে দিয়ে সরবরাহ ঘাটতি কমানো। সাধারণত পেঁয়াজ পরিবহণে সড়কপথের উপর বড়সড় নির্ভরতা থাকে। কিন্তু একসঙ্গে বিপুল পরিমাণ পেঁয়াজ রেলের মাধ্যমে পাঠানো হলে পরিবহণের সময় ও খরচ — দুই ক্ষেত্রেই সুবিধা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

৩৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি সরকারি পেঁয়াজ

পশ্চিমবঙ্গে ইতিমধ্যেই সরকারি উদ্যোগে পেঁয়াজ বিক্রি শুরু হয়েছে। কলকাতার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বাজার ও জনবহুল এলাকায় সরকারি ব্যবস্থাপনায় পেঁয়াজ বিক্রির ব্যবস্থা করা হয়েছে। কোলে মার্কেট, মেছুয়া মান্ডি, মানিকতলা, শ্যামবাজার-সহ একাধিক এলাকায় সরকারি পেঁয়াজ পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

সরকারি বিক্রয়ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতি কেজি ৩৫ টাকা দরে পেঁয়াজ দেওয়ার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। বাজারদরের তুলনায় এই দাম যথেষ্ট কম হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে এর চাহিদা তৈরি হয়েছে। তবে সরকারি দামে বিক্রি হওয়া পেঁয়াজের পরিমাণ এখনও সীমিত হওয়ায় কলকাতার সমস্ত বাজারে একই দামে পেঁয়াজ পাওয়া যাচ্ছে না।

কেন বাড়ছে পেঁয়াজের দাম?

পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধির পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। দেশের প্রধান পেঁয়াজ উৎপাদনকারী রাজ্যগুলির সরবরাহ পরিস্থিতি, পুরনো মজুত কমে যাওয়া এবং নতুন ফসল বাজারে আসার সময়ের ব্যবধান — সব মিলিয়ে বাজারে সরবরাহের উপর চাপ তৈরি হয়েছে।

এর পাশাপাশি উৎসবের মরশুমে খাদ্যপণ্যের চাহিদা সাধারণত বেড়ে যায়। পুজোর আগে বাড়িতে রান্নাবান্না থেকে শুরু করে হোটেল, রেস্তোরাঁ এবং বিভিন্ন খাদ্য ব্যবসায় পেঁয়াজের চাহিদা বাড়তে পারে। ফলে সরবরাহের সঙ্গে চাহিদার ভারসাম্য নষ্ট হলে খুচরো বাজারে দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

সরকারি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের খুচরো বাজারে পেঁয়াজের গড় দামে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি হয়েছে। কলকাতাতেও সাধারণ বাজারে পেঁয়াজের দাম সরকারি বিক্রয়মূল্যের তুলনায় যথেষ্ট বেশি রয়েছে। ফলে বাফার স্টকের পেঁয়াজ বাজারে ছাড়ার সিদ্ধান্তকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বাজারে প্রভাব পড়বে কি?

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু সরকারি দামে সীমিত পরিমাণে পেঁয়াজ বিক্রি করলেই বাজার দর স্থায়ীভাবে কমানো সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন নিয়মিত ও পর্যাপ্ত সরবরাহ। কেন্দ্রের বাফার স্টক থেকে আরও পেঁয়াজ পশ্চিমবঙ্গে পাঠানো হলে এবং তা পাইকারি ও খুচরো বাজারে দ্রুত পৌঁছে গেলে বাজারে সরবরাহ বাড়তে পারে।

সরকারি পেঁয়াজের দাম ও সাধারণ বাজারের দামের মধ্যে বড় ব্যবধান থাকলে সাধারণ ক্রেতারা সরকারি বিক্রয়কেন্দ্রের দিকে ঝুঁকবেন। এর ফলে খুচরো ব্যবসায়ীদের উপরও দাম কমানোর চাপ তৈরি হতে পারে। তবে সরকারি বিক্রয়ব্যবস্থার আওতা কতটা বাড়ানো হচ্ছে এবং বাজারে প্রতিদিন কত পরিমাণ পেঁয়াজ ঢুকছে, তার উপরই উদ্যোগটির কার্যকারিতা অনেকটাই নির্ভর করবে।

সুফল বাংলার মাধ্যমেও বিক্রির সম্ভাবনা

সরকারি বাফার স্টকের পেঁয়াজ আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ‘সুফল বাংলা’ প্রকল্পের মাধ্যমেও বিক্রির সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে খবর। এই ব্যবস্থা চালু হলে শহর ও শহরতলির বিভিন্ন এলাকায় তুলনামূলক কম দামে পেঁয়াজ পাওয়ার সুযোগ বাড়তে পারে।

এর ফলে সরকারি হস্তক্ষেপ সরাসরি সাধারণ ক্রেতার কাছে পৌঁছবে। একই সঙ্গে বাজারে অতিরিক্ত সরবরাহ তৈরি হলে সামগ্রিক খুচরো মূল্যেও তার প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

পুজোর আগে স্বস্তি কতটা?

পশ্চিমবঙ্গে দুর্গাপুজোর আগে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ে সাধারণ মানুষের নজর স্বাভাবিকভাবেই বেশি। এই সময়ে পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রের উদ্যোগ তাই বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। ‘কাঁদা এক্সপ্রেস’-এর মাধ্যমে নতুন করে বড় পরিমাণ পেঁয়াজ কলকাতায় পৌঁছলে বাজারে সরবরাহ পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হতে পারে।

তবে সরকারি পেঁয়াজের পাশাপাশি সাধারণ বাজারেও দাম কমছে কি না, সেটাই হবে এই উদ্যোগের আসল সাফল্যের মাপকাঠি। শুধু নির্দিষ্ট কিছু কেন্দ্রে ৩৫ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ বিক্রি নয়, বরং বৃহত্তর খুচরো বাজারে দাম কতটা নিয়ন্ত্রণে আসে, সেদিকেই নজর থাকবে ক্রেতা ও ব্যবসায়ী মহলের।

সব মিলিয়ে, পুজোর আগে পেঁয়াজের দাম নিয়ে বাড়তে থাকা উদ্বেগের মধ্যে কেন্দ্রের বাফার স্টক থেকে সরবরাহ, ৩৫ টাকা কেজি দরে সরকারি বিক্রি এবং রেলের মাধ্যমে ‘কাঁদা এক্সপ্রেস’ পাঠানোর সিদ্ধান্ত বাজারে কিছুটা স্বস্তি আনতে পারে। আগামী কয়েক দিনে কলকাতা ও পশ্চিমবঙ্গের অন্যান্য বাজারে সরবরাহ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পেঁয়াজের খুচরো দামে এর প্রকৃত প্রভাব কতটা পড়ে, এখন সেটাই দেখার।

- Advertisement -

এই রকম আরও

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here


- Advertisement -

সাম্প্রতিক খবর

- Advertisement -