সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান মক্কায় নতুন ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তি করেছে। চুক্তিতে এক দেশের ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনার নীতি রয়েছে। NATO-এর Article 5-এর সঙ্গে এর তুলনা করা হলেও এটি NATO-এর বিকল্প নয়। চুক্তিটি কোনও নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে নয়। তবে পাকিস্তানের সঙ্গে সৌদি ও তুরস্কের ঘনিষ্ঠতা ভারতের কৌশলগত উদ্বেগ বাড়াতে পারে।

মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিয়েছে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তি। সৌদি আরবের মক্কায় স্বাক্ষরিত এই চুক্তির মাধ্যমে তিন দেশ নিজেদের নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতাকে আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছে। চুক্তির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, তিন দেশের যেকোনও একটি দেশের ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করার নীতি গ্রহণ করা হয়েছে।
এই কারণেই চুক্তিটি আন্তর্জাতিক মহলে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। তুরস্কের পক্ষ থেকেও এই ব্যবস্থাকে NATO-এর Article 5-এর সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। যদিও তুরস্ক স্পষ্ট করেছে, এই চুক্তি NATO-কে প্রতিস্থাপন করার জন্য নয়। ফলে প্রশ্ন উঠছে — কেন এই তিন দেশ একসঙ্গে এল? চুক্তিতে আসলে কী বলা হয়েছে? আর ভারতের জন্য এর তাৎপর্যই বা কী?
কোথায় এবং কবে চুক্তি হয়েছে?
সৌদি আরবের পবিত্র শহর মক্কায় ২০২৬ সালের ৭ আগস্ট এই ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। তিন দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের উপস্থিতিতে চুক্তিটি সম্পন্ন হয়।
মক্কায় চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়টি শুধু কৌশলগত নয়, রাজনৈতিক দিক থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ। সৌদি আরব দীর্ঘদিন ধরে মুসলিম বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক শক্তি। অন্যদিকে তুরস্ক ও পাকিস্তানও মুসলিম বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও রাজনৈতিক শক্তি। ফলে তিন দেশের নিরাপত্তা সহযোগিতার এই নতুন কাঠামোকে আঞ্চলিক রাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
চুক্তির বাস্তবায়ন ও সমন্বয়ের জন্য মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক এবং একটি স্থায়ী সচিবালয়ের ব্যবস্থার কথাও বলা হয়েছে। সচিবালয় সৌদি আরবে স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।
কেন এই প্রতিরক্ষা চুক্তি?
এই চুক্তির পেছনে একটি মাত্র কারণ নেই। বরং মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার পরিবর্তিত নিরাপত্তা পরিস্থিতি, সামরিক হুমকি, আঞ্চলিক শক্তির প্রতিযোগিতা এবং নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর প্রয়োজন — সব মিলিয়েই এই উদ্যোগের পেছনে কাজ করেছে।
সৌদি আরব গত কয়েক বছর ধরে নিজের নিরাপত্তা কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে। মধ্যপ্রাচ্যে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা, বিভিন্ন সামরিক সংঘাত এবং গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রিয়াদের কাছে আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতাকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।
শুধু একটি পরাশক্তির নিরাপত্তা ছাতার ওপর নির্ভর না করে বিভিন্ন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অংশীদারের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সম্পর্ক জোরদার করাও সৌদি আরবের বৃহত্তর কৌশলের অংশ।
পাকিস্তানের সঙ্গে সৌদি আরবের সামরিক সম্পর্ক অবশ্য বহু পুরনো। দুই দেশের মধ্যে সামরিক প্রশিক্ষণ, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত যোগাযোগ দীর্ঘদিনের। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে সৌদি আরব ও পাকিস্তান একটি দ্বিপাক্ষিক Strategic Mutual Defence Agreement-এও সই করেছিল। নতুন ত্রিপক্ষীয় চুক্তি সেই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত করেছে।
তুরস্ক কেন গুরুত্বপূর্ণ?
এই চুক্তিতে তুরস্কের অন্তর্ভুক্তি পুরো উদ্যোগটিকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। তুরস্ক NATO-এর সদস্য এবং একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্য ও আশপাশের অঞ্চলে সামরিক ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি দেশ।
তুরস্কের নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্প গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী হয়েছে। ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র, যুদ্ধজাহাজ এবং অন্যান্য সামরিক প্রযুক্তির ক্ষেত্রে দেশটি নিজস্ব সক্ষমতা বাড়িয়েছে। ফলে সৌদি আরব ও পাকিস্তানের সঙ্গে তুরস্কের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা তিন দেশের জন্যই কৌশলগত সুবিধা তৈরি করতে পারে।
আঙ্কারার জন্যও উপসাগরীয় অঞ্চলে নিজের প্রভাব এবং কৌশলগত অংশীদারিত্ব বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
চুক্তিতে কী বলা হয়েছে?
চুক্তির কেন্দ্রীয় বিষয় হল collective defence বা যৌথ প্রতিরক্ষা। অর্থাৎ, সৌদি আরব, তুরস্ক অথবা পাকিস্তানের কোনও একটি দেশের ওপর সশস্ত্র হামলা হলে সেটিকে তিন দেশের বিরুদ্ধেই হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। আক্রান্ত দেশকে অন্য দুই দেশ রাজনৈতিক, কূটনৈতিক বা প্রয়োজন অনুযায়ী প্রতিরক্ষা সহায়তা দিতে পারে।
তবে এর অর্থ এই নয় যে কোনও একটি দেশের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হলেই বাকি দুই দেশ স্বয়ংক্রিয়ভাবে যুদ্ধে নেমে যাবে। বাস্তবে কী ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে, তা পরিস্থিতি, চুক্তির কাঠামো এবং সংশ্লিষ্ট দেশের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।
চুক্তিতে তিন দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ানো, নিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্য ও অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং সামরিক সমন্বয় আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
ভবিষ্যতে এই নিরাপত্তা কাঠামোয় আরও দেশকে যুক্ত করার সম্ভাবনাও আলোচনায় এসেছে। ফলে তিন দেশের বর্তমান উদ্যোগ ভবিষ্যতে আরও বড় আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় পরিণত হতে পারে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
NATO-এর সঙ্গে তুলনা কেন?
চুক্তিটি সামনে আসার পর সবচেয়ে বেশি আলোচিত হয়েছে NATO-এর Article 5-এর প্রসঙ্গ। NATO-এর Article 5-এর মূল ধারণা হল, জোটের কোনও একটি সদস্য দেশের ওপর সশস্ত্র হামলাকে পুরো জোটের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। নতুন সৌদি-তুরস্ক-পাকিস্তান চুক্তিতেও একই ধরনের collective defence ধারণা রয়েছে। এই কারণেই তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান চুক্তিটির প্রতিরক্ষা কাঠামোকে NATO-এর Article 5-এর সঙ্গে তুলনা করেছেন।
তবে দুটি ব্যবস্থাকে এক করে দেখা ঠিক হবে না। NATO ১৯৪৯ সালে প্রতিষ্ঠিত একটি দীর্ঘস্থায়ী সামরিক জোট। এর রয়েছে নিজস্ব কমান্ড কাঠামো, সামরিক পরিকল্পনা, যৌথ মহড়া এবং বহু দশকের প্রাতিষ্ঠানিক অভিজ্ঞতা। সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের নতুন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এখনও সেই পর্যায়ের সংগঠিত সামরিক জোট নয়। তাই একে ‘ইসলামিক NATO’ বলা হলেও সেটি মূলত রাজনৈতিক বা সংবাদমাধ্যমের একটি তুলনা। এটি NATO-এর আনুষ্ঠানিক বিকল্প নয়।
চুক্তিটি কি ইরানকে লক্ষ্য করে?
চুক্তির পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, এটি কি ইরানের বিরুদ্ধে কোনও নতুন সামরিক ভারসাম্য তৈরির চেষ্টা?
তুরস্কের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, চুক্তিটি ইরান বা কোনও নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে তৈরি করা হয়নি। এর ঘোষিত লক্ষ্য হল তিন দেশের নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ানো।
তবে মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতিতে এই চুক্তির কৌশলগত প্রভাব ইরানের ওপর পড়তে পারে। কারণ সৌদি আরব ও ইরানের মধ্যে অতীতে দীর্ঘদিনের আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ দেখা গেছে, তবুও নিরাপত্তা ও প্রভাব বিস্তার নিয়ে প্রতিযোগিতা পুরোপুরি শেষ হয়নি।
তাই নতুন প্রতিরক্ষা কাঠামোটি আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্যে কী প্রভাব ফেলে, তা নজরে রাখবে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো।
ভারতের উদ্বেগের কারণ কী?
এই চুক্তির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলোর একটি ভারতের সঙ্গে সম্পর্কিত। কারণ তিন দেশের মধ্যে পাকিস্তান ভারতের দীর্ঘদিনের কৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বী। ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে কাশ্মীর ইস্যু, সীমান্ত উত্তেজনা এবং সামরিক সংঘাতের ইতিহাস রয়েছে। ফলে পাকিস্তান যখন নতুন কোনও যৌথ প্রতিরক্ষা কাঠামোর অংশ হয়, তখন দিল্লির জন্য সেটি স্বাভাবিকভাবেই কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
বিশেষ করে চুক্তির collective defence ধারা ভারতের জন্য একটি প্রশ্ন তৈরি করতে পারে — ভবিষ্যতে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে বড় ধরনের সামরিক সংঘাত হলে পাকিস্তান কি এই চুক্তির আওতায় সৌদি আরব ও তুরস্কের কাছ থেকে কোনও ধরনের সহায়তা চাইতে পারে?
তবে এই প্রশ্নের উত্তর এখনই নিশ্চিত নয়। কারণ চুক্তিটি সরাসরি ভারতবিরোধী নয় এবং তিন দেশের কোনও পক্ষই প্রকাশ্যে ভারতকে এই উদ্যোগের লক্ষ্য হিসেবে ঘোষণা করেনি।
ভারতের উদ্বেগ মূলত সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ পরিস্থিতিকে ঘিরে। পাকিস্তানের সঙ্গে সৌদি আরব ও তুরস্কের প্রতিরক্ষা সম্পর্ক আরও গভীর হলে ইসলামাবাদের কূটনৈতিক ও কৌশলগত অবস্থান শক্তিশালী হতে পারে — এমন আশঙ্কা দিল্লির নীতিনির্ধারকদের বিবেচনায় আসতে পারে।
বিশেষ করে তুরস্কের পাকিস্তানপন্থী অবস্থান নিয়ে ভারত অতীতেও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ফলে নতুন চুক্তিতে তুরস্ক ও পাকিস্তানের পাশাপাশি সৌদি আরব যুক্ত হওয়ায় বিষয়টি ভারতের কাছে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
পাকিস্তানের জন্য কী লাভ?
পাকিস্তানের জন্য এই চুক্তি সামরিক ও কূটনৈতিক — দুই দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ। একদিকে সৌদি আরবের সঙ্গে দীর্ঘদিনের প্রতিরক্ষা সম্পর্ক আরও প্রাতিষ্ঠানিক হচ্ছে। অন্যদিকে তুরস্কের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতাও আরও বিস্তৃত হওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
পাকিস্তান একই সঙ্গে সৌদি আরবের অর্থনৈতিক শক্তি এবং তুরস্কের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি ও সামরিক সক্ষমতার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার সুযোগ পেতে পারে।
তবে চুক্তির বাস্তব সুফল কতটা পাওয়া যাবে, তা নির্ভর করবে ভবিষ্যতে তিন দেশ কীভাবে এর ধারা বাস্তবায়ন করে তার ওপর।
সৌদি আরবের লাভ কোথায়?
সৌদি আরবের জন্য এই চুক্তির প্রধান লক্ষ্যগুলোর একটি হতে পারে প্রতিরোধ ক্ষমতা বা deterrence বাড়ানো। একটি দেশের নিরাপত্তা হুমকি তিন দেশের যৌথ উদ্বেগে পরিণত হলে সম্ভাব্য প্রতিপক্ষের জন্য হিসাবটি আরও জটিল হতে পারে। একই সঙ্গে সৌদি আরব তুরস্ক ও পাকিস্তানের মতো গুরুত্বপূর্ণ সামরিক শক্তির সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করার সুযোগ পাচ্ছে।
এটি রিয়াদের বৃহত্তর কৌশলগত বহুমুখীকরণের অংশ হিসেবেও দেখা যেতে পারে।
ভবিষ্যতে কী হতে পারে?
চুক্তিটি এখনই NATO-এর মতো পূর্ণাঙ্গ সামরিক জোট নয়। তবে এর মধ্যে collective defence-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ নীতি থাকায় ভবিষ্যতে এর পরিধি বাড়তে পারে।
তিন দেশ যদি নিয়মিত যৌথ সামরিক মহড়া, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি সহযোগিতা এবং সামরিক পরিকল্পনা শুরু করে, তাহলে এই কাঠামো আরও কার্যকর হয়ে উঠতে পারে।
অন্যদিকে ভবিষ্যতে নতুন দেশ এতে যুক্ত হলে এর ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব আরও বাড়বে।
তবে একটি বিষয় স্পষ্ট — কাগজে যৌথ প্রতিরক্ষার প্রতিশ্রুতি এবং বাস্তবে কোনও দেশের হয়ে সামরিক যুদ্ধে অংশ নেওয়া এক বিষয় নয়। কোনও সংকট তৈরি হলে তিন দেশের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তি মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। তিন দেশের মধ্যে যৌথ প্রতিরক্ষার নীতি, সামরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং নিরাপত্তা সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্যে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।
চুক্তিটি সরাসরি কোনও দেশকে লক্ষ্য করে তৈরি হয়েছে — এমন ঘোষণা নেই। আবার এটিকে সরাসরি ‘ইসলামিক NATO’ বলাও যথাযথ নয়। তবে NATO-এর Article 5-এর মতো collective defence ধারণা থাকায় এই তুলনা তৈরি হয়েছে।
ভারতের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, পাকিস্তানের সঙ্গে সৌদি আরব ও তুরস্কের সামরিক সম্পর্ক আরও গভীর হওয়া। ভবিষ্যতে এই চুক্তি ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক, মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্যে কী প্রভাব ফেলে, সেটিই এখন পর্যবেক্ষণের বিষয়।
সব মিলিয়ে, মক্কায় স্বাক্ষরিত এই চুক্তি শুধু তিন দেশের সামরিক সহযোগিতার ঘোষণা নয়; এটি পরিবর্তনশীল মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে নতুন কৌশলগত সমীকরণেরও ইঙ্গিত বহন করছে।

