বঙ্গোপসাগরে তৈরি নিম্নচাপের প্রভাবে পশ্চিমবঙ্গে আগামী কয়েকদিন বৃষ্টির দাপট বজায় থাকতে পারে। দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির সতর্কতা রয়েছে। উত্তরবঙ্গেও কয়েকটি জেলায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রপাত ও ঝোড়ো হাওয়া হতে পারে। ৩০ আগস্ট থেকে ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পরিস্থিতি বেশি সক্রিয় থাকলেও পরবর্তী কয়েকদিন বিচ্ছিন্নভাবে বৃষ্টি চলার পূর্বাভাস রয়েছে।

বর্ষার দাপট এখনই কমার লক্ষণ নেই। বঙ্গোপসাগরের উত্তর-পশ্চিম অংশ এবং সংলগ্ন পশ্চিমবঙ্গ ও উত্তর ওড়িশা উপকূলে তৈরি হওয়া নিম্নচাপের প্রভাবে আগামী কয়েকদিন পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় বৃষ্টি অব্যাহত থাকবে। কোথাও হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি, আবার কোথাও ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে বজ্রবিদ্যুৎ ও ঝোড়ো হাওয়ার আশঙ্কাও থাকছে।
ভারতীয় আবহাওয়া দফতর (IMD)-এর কলকাতা আঞ্চলিক কেন্দ্রের সর্বশেষ বিশেষ বুলেটিন অনুযায়ী, ২৯ আগস্ট উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এবং সংলগ্ন পশ্চিমবঙ্গ-উত্তর ওড়িশা উপকূল এলাকায় নিম্নচাপ তৈরি হয়েছে। এই নিম্নচাপটি পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টায় পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিকে এগিয়ে উত্তর ওড়িশা ও গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের উপর দিয়ে অগ্রসর হতে পারে। এর প্রভাবেই বাংলায় বৃষ্টির পরিস্থিতি আরও সক্রিয় হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
আজ থেকেই বাড়বে বৃষ্টির দাপট
৩০ আগস্ট, রবিবার দক্ষিণবঙ্গের প্রায় সব জেলাতেই হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি বা বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে কয়েকটি জেলায় বৃষ্টির তীব্রতা অনেক বেশি হতে পারে। পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামে কোথাও কোথাও ৭ থেকে ২০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টি হতে পারে।
এছাড়াও কলকাতা, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া, হুগলি, বাঁকুড়া এবং পুরুলিয়ায় এক-দু’টি জায়গায় ৭ থেকে ১১ সেন্টিমিটার পর্যন্ত ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে নিচু এলাকা, রাস্তা ও আন্ডারপাসে সাময়িক জল জমার আশঙ্কা রয়েছে।
বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রপাত এবং ঝোড়ো হাওয়াও পরিস্থিতি আরও অস্বস্তিকর করে তুলতে পারে। পূর্ব মেদিনীপুর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার কিছু এলাকায় ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত দমকা হাওয়া বয়ে যেতে পারে। দক্ষিণবঙ্গের অন্যান্য জেলাতেও ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সোমবারও থাকছে বৃষ্টির সতর্কতা
৩১ আগস্ট, সোমবারও দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির প্রবণতা যথেষ্ট বেশি থাকবে। অধিকাংশ জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি বা বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া এবং পশ্চিম বর্ধমানের এক-দু’টি জায়গায় ভারী বৃষ্টি হতে পারে।
পাশাপাশি পূর্ব মেদিনীপুর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার কিছু এলাকায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। অন্যান্য জেলাতেও ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
১ সেপ্টেম্বরেও পুরোপুরি স্বস্তি নয়
১ সেপ্টেম্বর, মঙ্গলবারও দক্ষিণবঙ্গের অধিকাংশ জায়গায় বৃষ্টি চলবে। পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া এবং পশ্চিম বর্ধমানের কিছু এলাকায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে সেপ্টেম্বরের শুরুতেও বর্ষার প্রভাব বজায় থাকবে।
এর পর ২ সেপ্টেম্বর থেকে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা অনেকটাই কমে এলেও দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি বা বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি চলতে পারে। IMD-র সাত দিনের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২ থেকে ৫ সেপ্টেম্বর দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জায়গায় বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকছে।
উত্তরবঙ্গেও বৃষ্টির পরিস্থিতি সক্রিয়
শুধু দক্ষিণবঙ্গ নয়, উত্তরবঙ্গেও আগামী কয়েকদিন বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ৩০ আগস্ট উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় অনেক জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। জলপাইগুড়ির এক-দু’টি জায়গায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
৩১ আগস্ট দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং, কোচবিহার ও আলিপুরদুয়ারে অধিকাংশ জায়গায় বৃষ্টি হতে পারে। দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারের এক-দু’টি জায়গায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে।
১ সেপ্টেম্বরও উত্তরবঙ্গে বৃষ্টি অব্যাহত থাকার পূর্বাভাস রয়েছে। ওই দিন দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহারের কিছু এলাকায় ভারী বৃষ্টি হতে পারে। ২ সেপ্টেম্বরও উত্তরবঙ্গের কয়েকটি জেলায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
সমুদ্রেও সতর্কতা
নিম্নচাপের প্রভাবে পশ্চিমবঙ্গ ও ওড়িশা উপকূল এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে সমুদ্র উত্তাল থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। ২৯ থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সমুদ্র এলাকায় ঘণ্টায় ৩৫ থেকে ৪৫ কিলোমিটার বেগে হাওয়া এবং দমকা হাওয়ার সময় সর্বোচ্চ ৫৫ কিলোমিটার পর্যন্ত বেগ হতে পারে। এই সময় পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা ও বাংলাদেশ উপকূল এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে আবহাওয়া দফতর।
জল জমা ও বজ্রপাত নিয়ে সতর্কতা
টানা বৃষ্টির ফলে নিচু এলাকা ও আন্ডারপাসে সাময়িক জল জমতে পারে। বৃষ্টির পাশাপাশি বজ্রপাতের আশঙ্কাও থাকায় সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে বজ্রপাতের সময় খোলা মাঠে থাকা, গাছের নিচে আশ্রয় নেওয়া কিংবা জলাশয়ের কাছাকাছি অবস্থান করা এড়িয়ে চলতে বলা হয়েছে।
সব মিলিয়ে, আগামী কয়েকদিন পশ্চিমবঙ্গে বর্ষার সক্রিয় পরিস্থিতি বজায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। ৩০ ও ৩১ আগস্ট এবং ১ সেপ্টেম্বর বৃষ্টির দাপট বেশি থাকতে পারে, এরপর ভারী বৃষ্টির সতর্কতা কিছুটা কমলেও বিচ্ছিন্নভাবে বৃষ্টি চলবে। ফলে যাতায়াতের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার পাশাপাশি আবহাওয়া দফতরের পরবর্তী আপডেটের দিকে নজর রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

