পশ্চিমবঙ্গের অন্নপূর্ণা যোজনায় আবেদন বাতিল হওয়া মহিলাদের জন্য ফের সুযোগ তৈরি হয়েছে। আধার, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট বা তথ্যগত সমস্যার কারণে যাঁদের আবেদন বাতিল হয়েছে, তাঁরা নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় দাবি জানিয়ে তথ্য সংশোধনের সুযোগ পাবেন। তবে ‘Under Process’ থাকা আবেদনকারীদের নতুন করে আবেদন করার প্রয়োজন নেই। যোগ্যতা ও নথি যাচাইয়ের পরই সংশ্লিষ্টদের আর্থিক সুবিধা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অন্নপূর্ণা যোজনা ঘিরে নতুন করে গুরুত্বপূর্ণ আপডেট সামনে এসেছে। প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার জন্য আবেদন করেও যাঁদের নাম বাতিল হয়েছে, তাঁদের একটি অংশকে ফের নিজেদের দাবি জানানোর এবং প্রয়োজনীয় তথ্য সংশোধন করে সুবিধা পাওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে আধার, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট এবং আবেদনপত্রের তথ্যের অসঙ্গতির কারণে যাঁদের আবেদন আটকে গিয়েছে, তাঁদের বিষয়টি পুনরায় যাচাই করার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
অন্নপূর্ণা যোজনার আওতায় যোগ্য মহিলাদের প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকা করে সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে রাজ্য সরকার। তৃতীয় কিস্তির টাকা পাঠানোর সময় আবেদনগুলির বিস্তারিত যাচাই করা হয়। সেই যাচাইয়ে প্রায় ১৭ লক্ষ আবেদন আপাতত বাতিল বা অর্থপ্রদানের তালিকা থেকে বাদ পড়ে। এই সংখ্যা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই বহু আবেদনকারীর মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। পরে রাজ্য সরকারের তরফে জানানো হয়, নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে বাতিল হওয়া আবেদনকারীরা ফের নিজেদের দাবি জানাতে পারবেন।
কেন এত আবেদন বাতিল হল?
সরকারি যাচাইয়ে উঠে আসা তথ্য অনুযায়ী, বাতিল হওয়া আবেদনের বড় অংশের ক্ষেত্রে আধার ও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত সমস্যা রয়েছে। প্রায় ১০ লক্ষ আবেদনের ক্ষেত্রে আধারের সঙ্গে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট যুক্ত না থাকার মতো সমস্যা চিহ্নিত হয়েছে বলে নবান্ন সূত্রে জানানো হয়েছে।
এছাড়াও কোনও আবেদনকারী বা তাঁর পরিবারের সদস্য সরকারি চাকরিতে থাকলে, অথবা আয়করদাতা হিসেবে রেকর্ড থাকলে, সেই আবেদনও যাচাইয়ের আওতায় এসেছে। প্রকল্পের যোগ্যতার শর্ত পূরণ না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে আবেদন বাতিল হয়েছে মানেই যে সংশ্লিষ্ট মহিলা কোনওভাবেই অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা পাবেন না, এমন নয়। বাতিলের কারণ যদি সংশোধনযোগ্য হয় এবং আবেদনকারী প্রকল্পের অন্যান্য যোগ্যতার শর্ত পূরণ করেন, তাহলে পুনরায় দাবি জানানোর সুযোগ রয়েছে।
কীভাবে ফের সুযোগ মিলবে?
রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে বাতিল হওয়া আবেদনকারীদের জন্য ‘Claim and Objection’ ব্যবস্থার কথা জানানো হয়েছে। এর মাধ্যমে যাঁরা নিজেদের যোগ্য মনে করছেন কিন্তু সুবিধা থেকে বাদ পড়েছেন, তাঁরা নিজেদের দাবি জানাতে পারবেন। পাশাপাশি অযোগ্য কোনও ব্যক্তি প্রকল্পের সুবিধা পেয়ে থাকলে, তাঁর বিরুদ্ধেও অভিযোগ জানানোর সুযোগ রাখা হয়েছে।
পরবর্তী পর্যায়ে ‘Social Register’-এর মাধ্যমে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে পুনরায় আবেদন বা দাবি জানানোর ব্যবস্থাও চালু করা হয়েছে। আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট নথি ফের যাচাই করা হবে। জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে নথি যাচাইয়ের পর যোগ্য বলে বিবেচিত হলে আর্থিক সুবিধা দেওয়ার প্রক্রিয়া এগোবে।
আধার ও ব্যাঙ্কের সমস্যা থাকলে কী করবেন?
অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়। ফলে আধার ও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্যের মধ্যে অসঙ্গতি থাকলে বা DBT সংক্রান্ত সমস্যা থাকলে টাকা আটকে যেতে পারে।
এই কারণে আবেদনকারীদের প্রথমেই নিজের আধার নম্বর, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট এবং ব্যাঙ্কের নথিতে থাকা নাম ও অন্যান্য তথ্য মিলিয়ে নেওয়া উচিত। আধারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট যুক্ত রয়েছে কি না, সেটিও নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
এ ধরনের সমস্যা সমাধানে স্থানীয় প্রশাসন এবং ব্যাঙ্কের সহযোগিতায় বিশেষ উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানিয়েছে সরকার। BDO-দের ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
‘Under Process’ দেখালে কী করবেন?
এখানেও রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কোনও আবেদনকারীর স্ট্যাটাস যদি এখনও ‘Under Process’ দেখায়, তাহলে শুধুমাত্র টাকা এখনও না আসার কারণে নতুন করে আবেদন করার প্রয়োজন নেই। সেই আবেদন এখনও যাচাইয়ের মধ্যে থাকতে পারে।
সাম্প্রতিক আপডেট অনুযায়ী, পেমেন্ট দেরি হওয়ার পিছনে DBT সক্রিয় না থাকা, আধার ও ব্যাঙ্কের তথ্যের অমিল, আবেদনপত্রে ভুল তথ্য অথবা প্রশাসনিক যাচাই অসম্পূর্ণ থাকার মতো কারণ থাকতে পারে। তাই ‘Under Process’ দেখালে আগে সংশ্লিষ্ট আবেদনটির বর্তমান অবস্থা যাচাই করাই যুক্তিযুক্ত।
কবে টাকা মিলবে?
অন্নপূর্ণা যোজনার তৃতীয় কিস্তিতে ১ কোটি ৪৫ লক্ষ সুবিধাভোগীর অ্যাকাউন্টে ৩,০০০ টাকা করে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। তবে সব অ্যাকাউন্টে একই সময়ে টাকা জমা পড়েনি। প্রশাসনের তরফে ধাপে ধাপে অর্থ পাঠানো হয়েছে।
যাঁদের আবেদন এখনও যাচাইয়ের মধ্যে রয়েছে বা ব্যাঙ্ক-আধার সংক্রান্ত সমস্যা রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে টাকা পেতে দেরি হতে পারে। তাই টাকা না ঢুকলেই আবেদন বাতিল হয়েছে ধরে নেওয়া ঠিক নয়।
আবেদনকারীদের জন্য সবচেয়ে জরুরি বার্তা
অন্নপূর্ণা যোজনায় আবেদন করে টাকা না পেলে প্রথমে নিজের আবেদনের স্ট্যাটাস এবং বাতিলের কারণ জানতে হবে। যদি আধার বা ব্যাঙ্কের সমস্যার কারণে আবেদন আটকে থাকে, তা সংশোধন করতে হবে। আর যদি আবেদন বাতিল হয়ে থাকে কিন্তু আবেদনকারী মনে করেন তিনি প্রকল্পের জন্য যোগ্য, তাহলে নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে ফের দাবি জানানো যেতে পারে।
তবে একই সঙ্গে মনে রাখতে হবে, শুধু নতুন করে আবেদন করলেই টাকা পাওয়া নিশ্চিত নয়। সংশ্লিষ্ট নথি ও যোগ্যতা ফের যাচাই করা হবে। যাচাইয়ে যোগ্য প্রমাণিত হলেই আর্থিক সুবিধা দেওয়ার প্রক্রিয়া এগোবে।
সব মিলিয়ে, অন্নপূর্ণা যোজনায় আবেদন বাতিল হওয়া মহিলাদের জন্য ফের সুযোগের খবর নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে আধার ও ব্যাঙ্কের তথ্যগত সমস্যার কারণে যাঁরা বাদ পড়েছেন, তাঁদের জন্য নিজেদের তথ্য সংশোধন করে পুনরায় যাচাইয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে। তাই আতঙ্কিত না হয়ে আবেদনটির স্ট্যাটাস, বাতিলের কারণ এবং প্রয়োজনীয় নথি ঠিকঠাক রয়েছে কি না — এই তিনটি বিষয় আগে নিশ্চিত করাই সবচেয়ে জরুরি।

