কলকাতার একাধিক রাস্তার নাম বদলের ইঙ্গিত, কোন কোন রাস্তা রয়েছে আলোচনায়?

- Advertisement -

কলকাতার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার নাম পরিবর্তনের সম্ভাবনা ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ সরকার রাস্তা, সরণি, সেতু ও জনপরিসরের নামকরণ সংক্রান্ত প্রস্তাব খতিয়ে দেখতে ১০ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে। আলোচনায় রয়েছে লেলিন সরণি, কার্ল মার্কস সরণি ও হো চি মিন সরণি। তবে এখনও কোনও নাম পরিবর্তনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। কমিটির সুপারিশের পরই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

কলকাতার একাধিক রাস্তার নাম বদলের ইঙ্গিত, কোন কোন রাস্তা রয়েছে আলোচনায়?

কলকাতার রাস্তা ও জনপরিসরের পরিচিত নামগুলিতে কি এবার বড় পরিবর্তন আসতে চলেছে? এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে শহর ও রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে। পশ্চিমবঙ্গ সরকার রাজ্যের বিভিন্ন রাস্তা, সরণি, অ্যাভিনিউ, সেতু এবং সাধারণ মানুষের ব্যবহারের গুরুত্বপূর্ণ জায়গার নামকরণ ও পুরনো নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব খতিয়ে দেখতে একটি বিশেষ ১০ সদস্যের উপদেষ্টা কমিটি গঠন করেছে। ফলে কলকাতার একাধিক পরিচিত রাস্তার নাম নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

তবে এই মুহূর্তে একটি বিষয় স্পষ্ট করে দেওয়া প্রয়োজন — কোনও নির্দিষ্ট রাস্তার নাম বদল এখনও চূড়ান্ত হয়নি। কমিটির কাজ হল বিভিন্ন প্রস্তাব পরীক্ষা করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ করা। সেই সুপারিশের ভিত্তিতেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

কেন গঠন করা হল এই কমিটি?

রাজ্য সরকারের নির্দেশিকা অনুযায়ী, বিভিন্ন সরকারি দফতর, স্থানীয় প্রশাসন, পুরসভা, জেলা প্রশাসন এবং অনুমোদিত সংস্থার কাছ থেকে রাস্তা বা জনপরিসরের নামকরণ এবং নাম পরিবর্তনের যে প্রস্তাব আসবে, তা খতিয়ে দেখবে এই কমিটি।

প্রস্তাবিত নামের ক্ষেত্রে ইতিহাস, সংস্কৃতি, সামাজিক গুরুত্ব এবং ঐতিহ্য — এই বিষয়গুলিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি কোনও পুরনো বা ঐতিহাসিক নাম পুনরুদ্ধারের সুযোগ থাকলে, তার পক্ষে থাকা নথি ও ঐতিহাসিক প্রমাণও পরীক্ষা করা হবে।

প্রয়োজনে ইতিহাসবিদ, বিশেষজ্ঞ, হেরিটেজ সংস্থা, স্থানীয় প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য পক্ষের মতামত নেওয়ার সুযোগও রাখা হয়েছে। অর্থাৎ শুধু রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে নয়, নথি ও ঐতিহাসিক তথ্যের ভিত্তিতেও নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব বিচার করার কথা বলা হয়েছে।

কমিটির নেতৃত্বে কার্তিক মহারাজ

এই বিশেষ কমিটির চেয়ারম্যান করা হয়েছে স্বামী প্রদীপ্তানন্দকে, যিনি কার্তিক মহারাজ নামে পরিচিত। কমিটিতে রয়েছেন প্রাক্তন রাজ্যপাল তথাগত রায়, মুখ্যমন্ত্রীর মুখ্য উপদেষ্টা সুব্রত গুপ্ত এবং কলকাতা পুরসভার মিউনিসিপ্যাল কমিশনার স্মিতা পাণ্ডে।

এছাড়াও স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দফতর, তথ্য ও সংস্কৃতি দফতর, পূর্ত দফতর এবং পশ্চিমবঙ্গ হেরিটেজ কমিশনের প্রতিনিধিরাও কমিটির সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। নগরোন্নয়ন ও পুর বিষয়ক দফতরের একজন যুগ্মসচিব পদমর্যাদার আধিকারিককে সদস্য-সচিব করার কথাও সরকারি নির্দেশিকায় রয়েছে।

কোন কোন রাস্তার নাম নিয়ে আলোচনা?

কমিটি গঠনের খবর প্রকাশ্যে আসার পর কলকাতার বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার নাম নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি নজরে এসেছে লেলিন সরণি, কার্ল মার্কস সরণি এবং হো চি মিন সরণি।

এই তিনটি রাস্তার নামই আন্তর্জাতিক কমিউনিস্ট আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বদের স্মরণ করিয়ে দেয়। ফলে নাম পরিবর্তনের সম্ভাবনা ঘিরে রাজনৈতিক ও সামাজিক আলোচনা তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।

তবে এই রাস্তার নামগুলি পরিবর্তন করা হবে — এমন কোনও চূড়ান্ত সরকারি সিদ্ধান্ত এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। বর্তমানে এগুলি সম্ভাব্য পরিবর্তনের আলোচনার মধ্যেই রয়েছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে কমিটির পর্যালোচনা ও সুপারিশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

এছাড়াও কলকাতার আরও কিছু রাস্তা ও জনপরিসরের নাম নিয়ে প্রস্তাব রয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে আগামী দিনে কমিটির কাছে আরও নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব জমা পড়তে পারে।

শুধু নাম নয়, ঐতিহাসিক পরিচয়ও বিবেচনায়

রাস্তার নাম কোনও শহরের কাছে শুধু ঠিকানা নয়। অনেক সময় একটি রাস্তার নামের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে শহরের রাজনৈতিক ইতিহাস, সাংস্কৃতিক স্মৃতি এবং সামাজিক পরিবর্তনের দীর্ঘ ইতিহাস।

কলকাতার ক্ষেত্রেও বিষয়টি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। ঔপনিবেশিক আমল থেকে শুরু করে স্বাধীনতার পরবর্তী সময় — বিভিন্ন পর্যায়ে শহরের রাস্তা ও এলাকার নাম পরিবর্তিত হয়েছে। কোনও ক্ষেত্রে পুরনো নাম ফিরেছে, আবার কোনও ক্ষেত্রে নতুন রাজনৈতিক বা সামাজিক পরিচয়ের প্রতিফলন ঘটেছে।

নতুন কমিটি যদি ঐতিহাসিক নাম পুনরুদ্ধারের প্রস্তাব বিবেচনা করে, তাহলে কলকাতার পুরনো ইতিহাস ও নথিপত্রও নতুন করে আলোচনায় আসতে পারে।

নাম বদল নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের সম্ভাবনা

রাস্তার নাম পরিবর্তনের বিষয়টি যে রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। বিশেষ করে লেলিন, কার্ল মার্কস বা হো চি মিনের মতো আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ হলে তা নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মতপার্থক্য তৈরি হতে পারে।

একদিকে নাম পরিবর্তনের সমর্থকদের যুক্তি হতে পারে — শহরের বর্তমান সামাজিক ও ঐতিহাসিক পরিচয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে রাস্তার নাম পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন। অন্যদিকে বিরোধীদের বক্তব্য হতে পারে — ঐতিহাসিক নাম পরিবর্তন করলে শহরের অতীত রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক স্মৃতির একটি অংশ মুছে যেতে পারে।

ফলে এই প্রক্রিয়া শুধু প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে সীমাবদ্ধ থাকবে না; জনমত এবং রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

আইন মেনে তবেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত

আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, কমিটির সুপারিশই শেষ কথা নয়। কলকাতা পুরসভার আওতাধীন রাস্তার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আইন ও নির্দিষ্ট নামকরণ প্রক্রিয়া মানতে হবে।

সরকারি নির্দেশিকাতেও বলা হয়েছে, কমিটির সুপারিশ কোনও ক্ষেত্রেই সংশ্লিষ্ট আইনগত বা বিধিবদ্ধ প্রক্রিয়াকে অতিক্রম করবে না। কলকাতা পুরসভার রাস্তার ক্ষেত্রে KMC Act, 1980 এবং নামকরণ সংক্রান্ত নির্দিষ্ট বিধি বিবেচনায় রাখতে হবে।

অর্থাৎ কমিটি কোনও নাম পরিবর্তনের পক্ষে মত দিলেও তার পরেও প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনগত ধাপ সম্পূর্ণ করতে হবে।

এখন কী হতে পারে?

এখন মূল নজর থাকবে কমিটির কাজের দিকে। বিভিন্ন দফতর ও স্থানীয় প্রশাসনের কাছ থেকে নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব সংগ্রহ করা হবে। এরপর প্রতিটি প্রস্তাবের ঐতিহাসিক ভিত্তি, সাংস্কৃতিক গুরুত্ব, সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা এবং প্রশাসনিক প্রয়োজনীয়তা যাচাই করা হতে পারে।

তারপর কমিটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ জমা দেবে। সেই সুপারিশ গ্রহণ করা হবে কি না, এবং কোনও রাস্তার নাম বাস্তবে পরিবর্তিত হবে কি না, তা পরবর্তী সিদ্ধান্তের বিষয়।

তাই এখনই লেলিন সরণি, কার্ল মার্কস সরণি বা হো চি মিন সরণির নতুন নাম ঘোষণা হয়েছে বলে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।

কলকাতার মানচিত্রে কি আসছে বড় পরিবর্তন?

সব মিলিয়ে, কলকাতার রাস্তার নাম নিয়ে নতুন করে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। রাজ্য সরকারের গঠিত ১০ সদস্যের কমিটি এই প্রক্রিয়াকে একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো দিয়েছে।

তবে নাম বদলের বিষয়টি বাস্তবে কতদূর এগোয়, কোন কোন রাস্তার ক্ষেত্রে পরিবর্তনের সুপারিশ করা হয় এবং শেষ পর্যন্ত প্রশাসন কোন সিদ্ধান্ত নেয়, সেদিকেই এখন নজর।

এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হল, কলকাতার একাধিক রাস্তার নাম বদলের সম্ভাবনা তৈরি হলেও কোনও চূড়ান্ত নাম পরিবর্তন এখনও ঘোষণা করা হয়নি। আগামী দিনে কমিটির সুপারিশ এবং সরকারের সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে কলকাতার পরিচিত রাস্তার নামের কতটা পরিবর্তন বাস্তবে দেখা যাবে।

- Advertisement -

এই রকম আরও

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here


- Advertisement -

সাম্প্রতিক খবর

- Advertisement -