নয়াদিল্লিতে চলতি BRICS সম্মেলনে ‘New Delhi Declaration’ গৃহীত হয়েছে। পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত, সন্ত্রাসবাদ, বাণিজ্য, স্থানীয় মুদ্রায় লেনদেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও মহাকাশ সহযোগিতা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত এসেছে। মোদি-শি ও মোদি-পুতিন বৈঠকও বিশেষ তাৎপর্য পেয়েছে। Global South-এর প্রতিনিধিত্ব বাড়ানো এবং বহুপাক্ষিক বিশ্বব্যবস্থা শক্তিশালী করার বার্তাও দিয়েছে BRICS। ভারতের সভাপতিত্বে সম্মেলনটি আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিয়েছে।

ভারতের সভাপতিত্বে নয়াদিল্লিতে চলতি ১৮তম BRICS শীর্ষ সম্মেলন আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা সামনে এনেছে। বিশ্বের দ্রুত পরিবর্তনশীল ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি, পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত, সন্ত্রাসবাদ, বাণিজ্যিক চাপ, জলবায়ু পরিবর্তন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং Global South-এর প্রতিনিধিত্ব — সবকটি বিষয়ই সম্মেলনের আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে সদস্য দেশগুলোর সর্বসম্মতিক্রমে ‘New Delhi Declaration 2026’ গ্রহণকে দেখা হচ্ছে। ঘোষণাপত্রে আন্তর্জাতিক বিরোধ সংলাপ, পরামর্শ ও কূটনীতির মাধ্যমে সমাধানের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
সর্বসম্মতভাবে গৃহীত ‘New Delhi Declaration’
সম্মেলনের প্রথম দিনের অন্যতম বড় সাফল্য ছিল ‘New Delhi Declaration’ গ্রহণ। ভারতের আয়োজনে BRICS-এর সম্প্রসারিত সদস্যগোষ্ঠী আন্তর্জাতিক নানা বিষয়ে নিজেদের অবস্থানকে একটি যৌথ ঘোষণায় তুলে ধরেছে। ঘোষণাপত্রে পারস্পরিক সম্মান, সার্বভৌম সমতা, অন্তর্ভুক্তিমূলক সহযোগিতা এবং বহুপাক্ষিকতার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
BRICS-এর ভবিষ্যৎ সহযোগিতাকে রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক ও আর্থিক এবং সাংস্কৃতিক ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগ — এই তিনটি স্তম্ভের ওপর আরও শক্তিশালী করার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে আরও প্রতিনিধিত্বশীল ও ন্যায়সঙ্গত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত নিয়ে বড় বার্তা
চলতি সময়ে পশ্চিম এশিয়ায় তীব্র সংঘাতের আবহে BRICS সম্মেলনের এই অংশটি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। সদস্য দেশগুলো যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে সর্বোচ্চ সংযম দেখানোর আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি সংঘাতের সমাধানে সামরিক পদক্ষেপের বদলে আলোচনা, কূটনীতি এবং বহুপাক্ষিক উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
BRICS-এর মধ্যে ইরান যেমন সদস্য, তেমনই সংযুক্ত আরব আমিরশাহিও এই গোষ্ঠীর অংশ। ফলে পশ্চিম এশিয়ার চলমান উত্তেজনা নিয়ে একটি অভিন্ন অবস্থানে পৌঁছানো কূটনৈতিকভাবে সহজ ছিল না। সেই পরিস্থিতিতে যৌথ ঘোষণাপত্র গ্রহণকে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান
দিল্লি সম্মেলনে সন্ত্রাসবাদ নিয়েও স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছে BRICS। ঘোষণাপত্রে সন্ত্রাসবাদের সব ধরনের রূপ ও প্রকাশের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। সন্ত্রাসে অর্থ জোগান, নিরাপদ আশ্রয় এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে সন্ত্রাস মোকাবিলার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
ভারতের জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, ঘোষণাপত্রে পহেলগাঁও সন্ত্রাসী হামলার নিন্দা করা হয়েছে। ভারত দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক মঞ্চে সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় ‘জিরো টলারেন্স’-এর পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছে। BRICS ঘোষণায় এই প্রসঙ্গ উঠে আসায় নয়াদিল্লির কূটনৈতিক অবস্থান আরও জোরালো হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
মোদি-শি বৈঠকে ভারত-চিন সম্পর্কের নতুন বার্তা
BRICS সম্মেলনের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈঠকও আন্তর্জাতিক মহলের নজর কেড়েছে। ২০২০ সালের সীমান্ত সংঘাতের পর দুই দেশের সম্পর্কের মধ্যে যে অবিশ্বাস তৈরি হয়েছিল, তা কাটিয়ে সম্পর্ককে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক করার প্রচেষ্টার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
বৈঠকে সীমান্তে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, বাণিজ্য, বাজারে প্রবেশাধিকার, সরাসরি যোগাযোগ এবং মানুষে-মানুষে সম্পর্ক বাড়ানোর মতো বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। শি জিনপিং দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা ও পারস্পরিক উন্নয়নের ওপর জোর দিয়েছেন। অন্যদিকে মোদি সীমান্তে শান্তি বজায় রাখাকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অগ্রগতির গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরেছেন।
শি জিনপিংয়ের এই সফর আরও গুরুত্বপূর্ণ কারণ ২০১৯ সালের পর এটাই তাঁর প্রথম ভারত সফর। ফলে BRICS-এর মঞ্চে দুই নেতার বৈঠক শুধু দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নয়, এশিয়ার বৃহত্তর ভূ-রাজনীতির ক্ষেত্রেও তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
মোদি-পুতিন বৈঠকেও গুরুত্ব
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী মোদির বৈঠকও সম্মেলনের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। ভারত-রাশিয়ার দীর্ঘদিনের কৌশলগত সম্পর্কের পাশাপাশি বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি, বাণিজ্য, জ্বালানি এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
BRICS-এর মঞ্চে একই সময়ে মোদি, পুতিন এবং শি জিনপিংয়ের উপস্থিতি আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বিশেষ প্রতীকী গুরুত্ব তৈরি করেছে। ভারতের পক্ষ থেকে অবশ্য বারবার বলা হয়েছে, BRICS কোনও নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে গঠিত জোট নয়; বরং উন্নয়নশীল দেশগুলোর সহযোগিতা ও বহুপাক্ষিকতার একটি প্ল্যাটফর্ম।
মার্কিন শুল্ক ও একতরফা নিষেধাজ্ঞা নিয়ে আপত্তি
বিশ্ব বাণিজ্যে শুল্ক, নিষেধাজ্ঞা এবং সুরক্ষাবাদী নীতির প্রভাব নিয়েও BRICS দেশগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ঘোষণাপত্রে একতরফা অর্থনৈতিক ব্যবস্থা এবং বাণিজ্যিক বাধার নেতিবাচক প্রভাবের কথা তুলে ধরা হয়েছে।
বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনীতি যাতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ব্যবস্থার পরিবর্তনশীল পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে BRICS দেশগুলো সমন্বিত অবস্থানের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে। একই সঙ্গে বিশ্ব বাণিজ্য ব্যবস্থাকে আরও ন্যায়সঙ্গত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
ডলারের বিকল্প নিয়ে বাস্তবসম্মত অবস্থান
BRICS-এর নিজস্ব মুদ্রা চালুর সম্ভাবনা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনা চলছে। তবে দিল্লি সম্মেলনে এখনই একটি পৃথক BRICS মুদ্রা চালুর সিদ্ধান্ত সামনে আসেনি। বরং স্থানীয় মুদ্রায় সীমান্ত-পারাপার বাণিজ্য এবং অর্থপ্রদানের ব্যবস্থাকে আরও সহজ করার দিকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
এই ক্ষেত্রে সদস্য দেশগুলোর ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত করার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ভারতের UPI-সহ বিভিন্ন দেশের নিজস্ব পেমেন্ট ব্যবস্থার মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর আলোচনা ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক লেনদেনের ক্ষেত্রে নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তি সহযোগিতা
BRICS সম্মেলনে AI বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিষয়টিও বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের সঙ্গে নিরাপত্তা, নৈতিকতা, তথ্যের ব্যবহার এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা সামনে এসেছে।
চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং BRICS দেশগুলোর মধ্যে AI সহযোগিতা বাড়ানোর পক্ষে মত দিয়েছেন। প্রযুক্তির সুফল যাতে কেবল কয়েকটি উন্নত দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোও নতুন প্রযুক্তির সুযোগ পায়, সেই দিকটি আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে।
মহাকাশ সহযোগিতাতেও অগ্রগতি
বিজ্ঞান ও মহাকাশ গবেষণার ক্ষেত্রেও BRICS সহযোগিতার নতুন দিক সামনে এসেছে। BRICS Remote Sensing Satellite Constellation সম্প্রসারণের অগ্রগতি স্বাগত জানিয়েছে সদস্য দেশগুলো। পাশাপাশি BRICS Space Council-এর কাঠামো তৈরির কাজও এগিয়েছে।
মহাকাশে আবর্জনা বা space debris কমানো, মহাকাশ গবেষণায় তথ্য ভাগ করে নেওয়া এবং নতুন প্রযুক্তিতে সহযোগিতা বাড়ানোর মতো বিষয়গুলো নিয়েও আলোচনা হয়েছে। এর ফলে ভবিষ্যতে BRICS-এর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সহযোগিতা আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেতে পারে।
স্বাস্থ্য ও মানসিক সুস্থতায় নতুন উদ্যোগ
BRICS দেশগুলোর মধ্যে স্বাস্থ্য সহযোগিতার ক্ষেত্রেও নতুন উদ্যোগ সামনে এসেছে। মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য Centres of Excellence-এর একটি নেটওয়ার্ক গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ভারতের বেঙ্গালুরুর NIMHANS-কে এই উদ্যোগের সমন্বয়কারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে।
শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের মানসিক স্বাস্থ্য, সংকটকালীন psychosocial support এবং অসংক্রামক রোগ মোকাবিলার মতো বিষয়গুলোও এই সহযোগিতার অংশ। BRICS Mission for Healthy Lifestyle 2026-29-এর কথাও ঘোষণাপত্রে উঠে এসেছে।
Global South-এর প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর দাবি
ভারতের সভাপতিত্বে চলা এই সম্মেলনে Global South-এর ভূমিকা বাড়ানো ছিল অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা। প্রধানমন্ত্রী মোদি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন।
বিশেষ করে রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদসহ আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কারের দাবি নতুন করে সামনে এসেছে। ভারত দীর্ঘদিন ধরেই নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যপদে সংস্কারের পক্ষে প্রচার চালিয়ে আসছে। BRICS-এর ঘোষণাপত্রে বহুপাক্ষিক প্রতিষ্ঠানকে আরও প্রতিনিধিত্বশীল করার আহ্বান ভারতের এই অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
সামনে কী?
১৩ সেপ্টেম্বর সম্মেলনের শেষ দিনের আলোচনায় BRICS Plus এবং Outreach বৈঠক গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ভারতের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই সম্মেলনের মাধ্যমে সদস্য দেশগুলোর পাশাপাশি বৃহত্তর Global South-এর সঙ্গে BRICS-এর সম্পর্ক আরও গভীর করার চেষ্টা চলছে।
সম্মেলনের শেষে সবচেয়ে বড় বার্তা সম্ভবত এটাই — বিশ্ব রাজনীতিতে মতপার্থক্য যতই থাকুক, অর্থনীতি, প্রযুক্তি, স্বাস্থ্য, জলবায়ু এবং উন্নয়নের মতো ক্ষেত্রে সহযোগিতার একটি অভিন্ন ক্ষেত্র তৈরি করা সম্ভব। একই সঙ্গে পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত, সন্ত্রাসবাদ ও বাণিজ্যিক চাপের মতো কঠিন প্রশ্নে BRICS নিজেদের যৌথ অবস্থান স্পষ্ট করেছে।
ভারতের জন্যও এই সম্মেলন গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক পরীক্ষা। একদিকে রাশিয়া ও চিনের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা, অন্যদিকে পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে ভারতের ক্রমবর্ধমান যোগাযোগ — এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রেখে BRICS-কে একটি বৃহত্তর উন্নয়নমুখী প্ল্যাটফর্ম হিসেবে তুলে ধরাই নয়াদিল্লির অন্যতম লক্ষ্য।
২০২৬ সালের BRICS সম্মেলন শেষ হওয়ার পর আগামী বছর সভাপতিত্ব যাবে চিনের হাতে। ফলে দিল্লির ঘোষণাপত্র এবং এই সম্মেলনে তৈরি হওয়া সমঝোতাগুলো আগামী এক বছরে BRICS-এর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অগ্রাধিকারের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হয়ে উঠতে পারে।

