২০ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বঙ্গোপসাগরে তৈরি নিম্নচাপ ক্রমশ শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনায় ২২ সেপ্টেম্বর থেকে দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির পরিমাণ বাড়তে পারে। কলকাতা-সহ একাধিক জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ ও দমকা হাওয়া হতে পারে। ২৩–২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গেও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। আপাতত ঘূর্ণিঝড়ের কোনও নিশ্চিত পূর্বাভাস নেই, তবে পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে আবহাওয়া দফতর।

বর্ষার মরসুম শেষের দিকে এগোলেও এখনই স্বস্তির পথে হাঁটছে না পশ্চিমবঙ্গের আবহাওয়া। বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপকে কেন্দ্র করে আগামী কয়েক দিনে রাজ্যের বিভিন্ন অংশে বৃষ্টির প্রবণতা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে ২২ সেপ্টেম্বরের পর দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির পরিমাণ বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর। কলকাতা-সহ গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের একাধিক এলাকায় বজ্রবিদ্যুৎ, দমকা হাওয়া এবং ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা নিয়ে সতর্কতা জারি হয়েছে।
ভারতীয় আবহাওয়া দফতরের কলকাতা আঞ্চলিক কেন্দ্রের সর্বশেষ সতর্কতা অনুযায়ী, ২০ ও ২১ সেপ্টেম্বর গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এরপর ২২ সেপ্টেম্বর থেকে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা শুরু হচ্ছে। ২৩ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্তও ভারী বৃষ্টি এবং বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়ের সম্ভাবনা বজায় থাকতে পারে।
বঙ্গোপসাগরে তৈরি হয়েছে নিম্নচাপ
আবহাওয়ার এই পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান কারণ বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া নতুন নিম্নচাপ। আবহাওয়া দফতরের তথ্য অনুযায়ী, উত্তর আন্দামান সাগরের উপর তৈরি হওয়া ঘূর্ণাবর্ত থেকে নিম্নচাপটি গঠিত হয়েছে। এটি পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে ধীরে ধীরে আরও শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, নিম্নচাপটি ২১ সেপ্টেম্বর নাগাদ নিম্নচাপ থেকে ডিপ্রেশনে এবং ২২ সেপ্টেম্বর নাগাদ গভীর নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে। এরপর সেটি পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিকে এগিয়ে ২৩ সেপ্টেম্বরের কাছাকাছি দক্ষিণ ওড়িশা ও উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের কাছাকাছি পৌঁছতে পারে।
এই নিম্নচাপের সরাসরি কেন্দ্র পশ্চিমবঙ্গের উপর দিয়ে যাওয়ার পূর্বাভাস নেই। তবে এর প্রভাবে বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর জলীয় বাষ্প রাজ্যের দিকে ঢুকতে পারে। ফলে দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় বৃষ্টির পরিমাণ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
২০ ও ২১ সেপ্টেম্বর কী পরিস্থিতি?
আজ, ২০ সেপ্টেম্বর কলকাতা-সহ গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গে আকাশ আংশিক থেকে মূলত মেঘলা থাকতে পারে। কয়েক দফায় বৃষ্টি অথবা বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও দমকা হাওয়ার সঙ্গে বজ্রপাতও হতে পারে।
কলকাতা ও হাওড়ার জন্য আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাসেও ২০ ও ২১ সেপ্টেম্বর বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি এবং বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়ের সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে। দমকা হাওয়ার গতিবেগ ঘণ্টায় প্রায় ৩০–৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে।
তবে সব জায়গায় একই সময়ে বৃষ্টি হবে না। স্থানীয়ভাবে মেঘ তৈরি হওয়ার উপর নির্ভর করে কোথাও অল্প সময়ের জন্য জোরালো বৃষ্টি হতে পারে, আবার কিছু এলাকায় বৃষ্টি নাও হতে পারে।
২২ সেপ্টেম্বর থেকে বদলাতে পারে পরিস্থিতি
আবহাওয়ার মূল পরিবর্তন শুরু হতে পারে ২২ সেপ্টেম্বর থেকে। IMD-এর সতর্কতায় ওই দিন থেকেই গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা দেখানো হয়েছে। একইসঙ্গে বজ্রবিদ্যুৎ এবং দমকা হাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
২৩ ও ২৪ সেপ্টেম্বর বৃষ্টির প্রবণতা আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে দক্ষিণবঙ্গের উপকূলবর্তী ও সংলগ্ন জেলাগুলিতে আবহাওয়ার প্রভাব বেশি অনুভূত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর এবং পশ্চিম মেদিনীপুরের মতো জেলাগুলিতে বৃষ্টির পাশাপাশি ঝোড়ো হাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। ঝাড়গ্রাম-সহ দক্ষিণবঙ্গের আরও কয়েকটি এলাকাতেও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
কলকাতায় কেমন থাকবে আবহাওয়া?
কলকাতাতেও আগামী কয়েকদিন বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০ থেকে ২২ সেপ্টেম্বর কলকাতায় মেঘলা আকাশ এবং এক-দু’দফা বৃষ্টি বা বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি হতে পারে। ২৩ ও ২৪ সেপ্টেম্বর মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ২৫ সেপ্টেম্বরও বৃষ্টির প্রবণতা বজায় থাকার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
তাপমাত্রাতেও সামান্য পরিবর্তন হতে পারে। বৃষ্টির পরিমাণ বাড়লে দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে। তবে আর্দ্রতা বেশি থাকায় বৃষ্টির আগে ও পরে ভ্যাপসা গরমের অনুভূতি থাকতে পারে।
উত্তরবঙ্গেও নজর আবহাওয়া দফতরের
শুধু দক্ষিণবঙ্গ নয়, উত্তরবঙ্গের আবহাওয়ার উপরও নজর রাখছে আবহাওয়া দফতর। উত্তরবঙ্গ ও সিকিমে ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড় এবং ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ২৫ ও ২৬ সেপ্টেম্বরও ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি রয়েছে।
দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহারের মতো জেলাগুলিতে পাহাড়ি ও নদী-সংলগ্ন এলাকায় বৃষ্টির প্রভাব পরিস্থিতি অনুযায়ী বাড়তে পারে। ফলে নিচু এলাকা ও দুর্বল রাস্তার ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলা গুরুত্বপূর্ণ।
ঘূর্ণিঝড় হবে কি?
বঙ্গোপসাগরের নিম্নচাপ শক্তিশালী হওয়ায় ঘূর্ণিঝড় নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে এই মুহূর্তে সেটিকে ঘূর্ণিঝড় হিসেবে ঘোষণা করা হয়নি। আবহাওয়াবিদদের মতে, নিম্নচাপটির শক্তি ও গতিপথ আগামী কয়েক দিনে আরও স্পষ্ট হবে। তাই এখনই ঘূর্ণিঝড়ের বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো ঠিক নয়।
আবহাওয়া দফতর অবশ্য জানিয়েছে, সিস্টেমটি শক্তিশালী হয়ে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে উপকূলবর্তী এলাকায় ঝোড়ো হাওয়া ও বৃষ্টির পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
মৎস্যজীবীদের জন্য সতর্কতা
বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ শক্তিশালী হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সমুদ্রের পরিস্থিতিও নজরে রাখা হচ্ছে। সমুদ্রে যাঁরা মাছ ধরতে যান, তাঁদের জন্য আবহাওয়া দফতরের সতর্কতা ও স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলা জরুরি।
বিশেষ করে নিম্নচাপটি যখন উপকূলের দিকে এগিয়ে আসবে, তখন সমুদ্র উত্তাল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। তাই আবহাওয়ার পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সমুদ্রে যাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন।
সাধারণ মানুষের জন্য পরামর্শ
আগামী কয়েকদিন বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায় অপ্রয়োজনে খোলা জায়গায় না থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বজ্রপাতের সময় গাছের নিচে দাঁড়ানো, জলাশয়ের কাছে থাকা কিংবা খোলা মাঠে অবস্থান করা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
শহরাঞ্চলে ভারী বৃষ্টি হলে নিচু এলাকায় জল জমতে পারে। রাস্তায় বের হওয়ার আগে স্থানীয় আবহাওয়ার আপডেট দেখে নেওয়া এবং ঝড়ের সময় বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থার বিষয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
সব মিলিয়ে, সেপ্টেম্বরের শেষভাগে ফের সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে পশ্চিমবঙ্গের আবহাওয়া। আজ ও আগামীকাল বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনার পর ২২ সেপ্টেম্বর থেকে বৃষ্টির মাত্রা বাড়ার পূর্বাভাস রয়েছে। ২৩–২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গ ও উত্তরবঙ্গের একাধিক এলাকায় ভারী বৃষ্টি হতে পারে। বঙ্গোপসাগরের নিম্নচাপটি কোন পথে এবং কতটা শক্তিশালী হয়ে এগোয়, তার উপরই আগামী দিনের আবহাওয়ার বড় অংশ নির্ভর করবে। তাই পরিস্থিতির উপর নিয়মিত নজর রাখছে আবহাওয়া দফতর।

