শিল্পে বিনিয়োগ বাড়াতে নতুন নীতি আনছে রাজ্য, থাকছে একাধিক আর্থিক সুবিধা

- Advertisement -

পশ্চিমবঙ্গে শিল্প ও বিনিয়োগ বাড়াতে নতুন Industrial Promotion Policy আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে রাজ্য সরকার। প্রস্তাবিত নীতিতে প্রায় ৫,০০০ কোটি টাকার প্রণোদনা কাঠামো, capital subsidy, tax reimbursement, soft loan এবং বিদ্যুৎ খরচে ছাড়ের মতো সুবিধা থাকতে পারে। বিনিয়োগের পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টিকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে। শিল্পের জন্য জমি ও পরিকাঠামো সহজলভ্য করার উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।

শিল্পে বিনিয়োগ বাড়াতে নতুন নীতি আনছে রাজ্য, থাকছে একাধিক আর্থিক সুবিধা

পশ্চিমবঙ্গে শিল্প ও বিনিয়োগের পরিবেশ আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে নতুন শিল্পনীতি আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে রাজ্য সরকার। নতুন নীতির মূল লক্ষ্য হিসেবে উঠে আসছে নতুন বিনিয়োগ টানা, শিল্পের সম্প্রসারণ, কর্মসংস্থান তৈরি এবং ব্যবসা করার ক্ষেত্রে বিভিন্ন বাধা কমানো। সরকারের পরিকল্পনায় সরাসরি বাজেট বরাদ্দের পাশাপাশি বিকল্প আর্থিক প্রণোদনার ব্যবস্থাও রাখার কথা ভাবা হচ্ছে।

রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত জানিয়েছেন, শিল্পে বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য একটি সমন্বিত Industrial Promotion Policy তৈরির কাজ চলছে। প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় capital subsidy, tax reimbursement-এর মতো সরাসরি আর্থিক সুবিধার পাশাপাশি soft loan এবং বিদ্যুতের খরচে ছাড়ের মতো বিকল্প প্রণোদনার বিষয়ও বিবেচনা করা হচ্ছে।

বিনিয়োগের পাশাপাশি কর্মসংস্থানেও জোর

নতুন শিল্পনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হতে পারে কর্মসংস্থানকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া। অর্থাৎ কোনও সংস্থা কত টাকা বিনিয়োগ করছে, তার পাশাপাশি সেই বিনিয়োগের মাধ্যমে কতগুলি নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে, সেটিও শিল্পকে দেওয়া সুবিধা নির্ধারণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

সরকারের কাছে শিল্পায়নের উদ্দেশ্য শুধু রাজ্যে বড় অঙ্কের পুঁজি আনা নয়; সেই বিনিয়োগ যাতে স্থানীয় অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে প্রভাব ফেলে, সেটিও নিশ্চিত করতে চাইছে সরকার। ফলে আগামী দিনে শিল্প সংস্থাগুলির জন্য incentive নির্ধারণের ক্ষেত্রে employment generation একটি গুরুত্বপূর্ণ মাপকাঠি হতে পারে।

প্রায় ৫,০০০ কোটি টাকার প্রণোদনা কাঠামো

রাজ্যের ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের বাজেটে শিল্পে বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য প্রায় ৫,০০০ কোটি টাকার investment promotion framework-এর কথা ঘোষণা করা হয়েছিল। এর লক্ষ্য নতুন শিল্প স্থাপন, existing industries-এর সম্প্রসারণ এবং কর্মসংস্থান বাড়ানো।

তবে পুরো অর্থ সরাসরি সরকারি বাজেট থেকে খরচ না করে বিভিন্ন ধরনের আর্থিক কাঠামো ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, সরকারের পক্ষ থেকে soft loan-এর মতো off-balance-sheet incentive ব্যবস্থাও বিবেচনা করা হচ্ছে। এর ফলে শিল্পকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া সম্ভব হবে, আবার একই সঙ্গে রাজ্যের বাজেটের উপর সরাসরি চাপ কিছুটা কম রাখা যাবে।

বিদ্যুতের খরচেও মিলতে পারে সুবিধা

শিল্প সংস্থাগুলির অন্যতম বড় পরিচালন ব্যয় হল বিদ্যুৎ। তাই নতুন শিল্পনীতিতে শিল্পের জন্য power tariff concession দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করছে রাজ্য সরকার।

কোন শিল্প বা প্রকল্প কতটা সুবিধা পাবে এবং কতদিন সেই সুবিধা বহাল থাকবে, সে বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রকাশ করা হয়নি। তবে শিল্পের উৎপাদন খরচ কমানো গেলে রাজ্যকে বিনিয়োগের গন্তব্য হিসেবে আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তোলা সম্ভব হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

Capital subsidy ও tax reimbursement-এর প্রস্তাব

নতুন নীতির আর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে capital subsidy। নতুন কারখানা, উৎপাদন ইউনিট বা বড় শিল্প প্রকল্প তৈরির ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদের নির্দিষ্ট আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হতে পারে।

এর পাশাপাশি বিভিন্ন করের ক্ষেত্রে reimbursement-এর কথাও বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে কোন শিল্পের জন্য কী ধরনের সুবিধা থাকবে, কত শতাংশ পর্যন্ত সুবিধা দেওয়া হবে এবং তার যোগ্যতার শর্ত কী হবে — এসব এখনও চূড়ান্ত হয়নি।

শিল্পের জন্য জমি নিয়ে নতুন উদ্যোগ

শিল্পনীতির পাশাপাশি শিল্পের জমি-সংক্রান্ত সমস্যার সমাধানেও গুরুত্ব দিচ্ছে রাজ্য। শিল্প স্থাপনের ক্ষেত্রে জমি পাওয়া এবং উপযুক্ত পরিকাঠামো তৈরি করা দীর্ঘদিন ধরেই একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

সম্প্রতি রাজ্য সরকার শিল্পের জন্য জমি ব্যবহারের ক্ষেত্রে নতুন পদক্ষেপের কথা জানিয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় পড়ে থাকা বা অব্যবহৃত industrial land এবং পুরনো শিল্পাঞ্চলের জমি চিহ্নিত করে সেগুলি কীভাবে নতুন শিল্পের কাজে ব্যবহার করা যায়, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

আগেই রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে নতুন land policy এবং শিল্পের জন্য জমির ব্যবস্থা সহজ করার পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছিল। শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় জমি দ্রুত দেওয়া গেলে নতুন বিনিয়োগের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক জটিলতা কমতে পারে।

প্রতিরক্ষা শিল্পেও বিনিয়োগের সম্ভাবনা

নতুন শিল্পনীতির সময়ে পশ্চিমবঙ্গে প্রতিরক্ষা উৎপাদন ক্ষেত্রেও বড় বিনিয়োগের খবর সামনে এসেছে। ২৩ আগস্ট কলকাতায় Garden Reach Shipbuilders and Engineers বা GRSE এবং Yantra India-র পাঁচটি brownfield expansion project-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। প্রকল্পগুলির মোট বিনিয়োগ প্রায় ৩,৫০০ কোটি টাকা।

এই ধরনের প্রকল্প পশ্চিমবঙ্গে engineering, manufacturing এবং defence production-এর পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী করতে পারে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট শিল্প ও ancillary units-এর জন্যও নতুন ব্যবসার সুযোগ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

নতুন Industrial Promotion Policy এখনও সম্পূর্ণভাবে কার্যকর হয়নি। সরকারের পক্ষ থেকে শিল্পমহল ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির সঙ্গে আলোচনা করে নীতির চূড়ান্ত কাঠামো তৈরি করার কথা বলা হয়েছে। ফলে incentive-এর পরিমাণ, যোগ্যতার শর্ত এবং কোন কোন sector-কে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে, তা পরবর্তী পর্যায়ে আরও স্পষ্ট হতে পারে।

রাজ্যের সামনে এখন মূল চ্যালেঞ্জ হবে ঘোষিত সুবিধাগুলিকে বাস্তবে কত দ্রুত কার্যকর করা যায়। বিনিয়োগকারীদের কাছে শুধু আর্থিক প্রণোদনা নয়, জমি, বিদ্যুৎ, পরিকাঠামো, অনুমোদন এবং প্রশাসনিক প্রক্রিয়াও গুরুত্বপূর্ণ। সেই কারণে নতুন শিল্পনীতির সাফল্য অনেকটাই নির্ভর করবে ঘোষণার পাশাপাশি তার বাস্তবায়নের উপর।

সব মিলিয়ে, নতুন নীতির মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গ শিল্পায়নের ক্ষেত্রে নতুন করে গতি আনার চেষ্টা করছে। বিনিয়োগের সঙ্গে কর্মসংস্থানকে যুক্ত করা, শিল্পের জন্য জমির ব্যবস্থা সহজ করা এবং আর্থিক প্রণোদনার নতুন কাঠামো তৈরি — এই তিনটি দিক আগামী দিনে রাজ্যের শিল্পনীতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হয়ে উঠতে পারে।

- Advertisement -

এই রকম আরও

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here


- Advertisement -

সাম্প্রতিক খবর

- Advertisement -