পশ্চিমবঙ্গে ফের সক্রিয় হচ্ছে বর্ষা। ২২ আগস্ট থেকে কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় বৃষ্টি ও বজ্রবিদ্যুতের সম্ভাবনা রয়েছে। ২৩ ও ২৪ আগস্ট গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া দফতর। উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারেও বৃষ্টির দাপট বাড়তে পারে। ভারী বৃষ্টিতে নিচু এলাকায় জল জমা এবং পাহাড়ে ভূমিধসের আশঙ্কা থাকায় সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বর্ষার মরশুমে ফের বদলাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গের আবহাওয়া। শনিবার রাজ্যের একাধিক জেলায় বৃষ্টি ও বজ্রবিদ্যুতের সম্ভাবনার পাশাপাশি আগামী কয়েকদিনে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করেছে ভারতীয় আবহাওয়া দফতর (IMD)। আবহাওয়া দফতরের ২২ আগস্টের পূর্বাভাস অনুযায়ী, গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গে ২৩ ও ২৪ আগস্ট ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। একই সময়ে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়ো আবহাওয়াও তৈরি হতে পারে।
শনিবার থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন অংশে আবহাওয়ার পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে। কলকাতা ও দক্ষিণবঙ্গের বেশ কিছু এলাকায় মেঘলা আকাশ এবং দফায় দফায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বৃষ্টির সঙ্গে ঘণ্টায় প্রায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে বলে পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে। ফলে বজ্রপাতের সময় সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
দক্ষিণবঙ্গে বাড়তে পারে বৃষ্টির পরিমাণ
দক্ষিণবঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে ভ্যাপসা গরম ও অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণে অস্বস্তি বাড়ছিল। শনিবার কলকাতা-সহ পার্শ্ববর্তী এলাকায় বৃষ্টি হলে সাময়িকভাবে তাপমাত্রা কমতে পারে। তবে বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ বেশি থাকায় বৃষ্টির পরেও অস্বস্তিকর পরিবেশ পুরোপুরি কাটবে না বলে আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের পূর্বাভাস।
কলকাতা ছাড়াও হাওড়া, হুগলি, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব বর্ধমান, পশ্চিম বর্ধমান এবং দুই মেদিনীপুরে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির পাশাপাশি দমকা হাওয়া বইতে পারে। উপকূলবর্তী এলাকাগুলিতেও আবহাওয়ার পরিবর্তনের দিকে নজর রাখছে প্রশাসন।
তবে আগামী ২৩ ও ২৪ আগস্ট পরিস্থিতি আরও সক্রিয় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। IMD-এর সর্বশেষ সতর্কতা অনুযায়ী, গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গে এই দু’দিন ভারী বৃষ্টি হতে পারে। ২৫ আগস্টও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এরপর ২৬ আগস্ট থেকে সতর্কতার মাত্রা কিছুটা কমার ইঙ্গিত মিলেছে।
উত্তরবঙ্গেও বৃষ্টির দাপট
দক্ষিণবঙ্গের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গেও বর্ষার প্রভাব বজায় থাকবে। বিশেষ করে দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি এবং আলিপুরদুয়ারের মতো পাহাড় ও ডুয়ার্স সংলগ্ন এলাকায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কোচবিহারসহ উত্তরবঙ্গের অন্যান্য জেলাতেও বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি চলতে পারে।
পাহাড়ি এলাকায় টানা বা ভারী বৃষ্টির ক্ষেত্রে ভূমিধস, রাস্তা পিচ্ছিল হয়ে যাওয়া এবং দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ার মতো সমস্যা তৈরি হতে পারে। ফলে পাহাড়ি রাস্তায় যাতায়াতের ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশ এবং আবহাওয়ার সর্বশেষ আপডেট মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
বজ্রপাত ও ঝোড়ো হাওয়ায় সতর্কতা
আবহাওয়া দফতরের সতর্কতায় শুধু বৃষ্টিই নয়, বজ্রপাত ও দমকা হাওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। শনিবার এবং রবিবার রাজ্যের বিভিন্ন অংশে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায় খোলা জায়গায় অযথা না থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বজ্রপাতের সময় গাছের নিচে দাঁড়ানো, বৈদ্যুতিক খুঁটি বা তারের কাছাকাছি থাকা কিংবা জলাশয়ের ধারে অবস্থান করা বিপজ্জনক হতে পারে। ঝোড়ো হাওয়ার সময়ে দুর্বল কাঠামো, অস্থায়ী ছাউনি এবং বিজ্ঞাপনের হোর্ডিংয়ের কাছাকাছি না থাকার পরামর্শও দেওয়া হচ্ছে।
জল জমার আশঙ্কা
স্বল্প সময়ে বেশি বৃষ্টি হলে কলকাতা-সহ শহরাঞ্চলের নিচু এলাকাগুলিতে জল জমার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি ভারী বৃষ্টির জেরে যান চলাচল ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। গ্রামীণ এলাকায় অতিরিক্ত বৃষ্টির প্রভাব পড়তে পারে কৃষিকাজেও।
IMD-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী, ভারী বৃষ্টির ক্ষেত্রে নিচু এলাকায় জল জমা, স্থানীয়ভাবে জলমগ্ন পরিস্থিতি এবং যোগাযোগ ব্যবস্থায় সাময়িক সমস্যা তৈরি হতে পারে। পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের ঝুঁকিও নজরে রাখতে হবে।
নজরে বঙ্গোপসাগর ও মৌসুমি পরিস্থিতি
বর্ষাকালে বঙ্গোপসাগর এবং তার সংলগ্ন এলাকায় তৈরি হওয়া বিভিন্ন আবহাওয়া ব্যবস্থা পশ্চিমবঙ্গের বৃষ্টির পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করে। সাম্প্রতিক সময়েও বঙ্গোপসাগর-সংলগ্ন অঞ্চলে সক্রিয় মৌসুমি পরিস্থিতির জেরে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল।
এই পরিস্থিতিতে আগামী কয়েকদিন পশ্চিমবঙ্গের আবহাওয়ার দিকে বিশেষ নজর থাকবে। বিশেষ করে ২৩ ও ২৪ আগস্ট গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গে বৃষ্টির তীব্রতা বাড়তে পারে। উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি জেলাগুলিতেও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায় স্থানীয় প্রশাসন ও সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়া দফতরের পরবর্তী বুলেটিনে বৃষ্টির পরিমাণ ও সতর্কতার মাত্রায় পরিবর্তন হতে পারে। তাই বাইরে বেরোনোর আগে স্থানীয় আবহাওয়ার আপডেট দেখে নেওয়া এবং বজ্রপাত বা ঝোড়ো হাওয়ার সময় প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না থাকার পরামর্শই আপাতত সবচেয়ে নিরাপদ।

