হকি বিশ্বকাপ ২০২৬ : পাকিস্তানকে হারালেও কতটা সুবিধাজনক জায়গায় হরমনপ্রীতরা?

- Advertisement -

ভারত পাকিস্তানকে ৫-৩ গোলে হারিয়ে হকি বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ডে জায়গা করে নিয়েছে। হরমনপ্রীত সিং ও অভিষেক জোড়া গোল করেছেন। তবে সেমিফাইনালের পথে ভারত এখনও পুরোপুরি সুবিধাজনক অবস্থানে নেই। নতুন ফরম্যাটে প্রথম পর্বের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট বহন হওয়ায় ইংল্যান্ডের কাছে হারের কারণে ভারত শূন্য পয়েন্ট নিয়ে পরের পর্ব শুরু করবে। তাই পরের দুই ম্যাচে ভালো ফল করাই ভারতের জন্য এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

হকি বিশ্বকাপ ২০২৬ : পাকিস্তানকে হারালেও কতটা সুবিধাজনক জায়গায় হরমনপ্রীতরা?

পাকিস্তানকে ৫-৩ গোলে হারিয়ে হকি বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ডে জায়গা করে নিয়েছে ভারত। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের বিরুদ্ধে এই জয় শুধু মর্যাদার লড়াইয়ে ভারতকে এগিয়ে দেয়নি, বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে ওঠার সম্ভাবনাও জিইয়ে রেখেছে। তবে দ্বিতীয় রাউন্ডে পৌঁছনোর পরও ভারতের সামনে রাস্তা মোটেই সহজ নয়। বরং নতুন ফরম্যাটে প্রথম পর্বের ফলাফলই পরের লড়াইয়ে ভারতের জন্য কিছুটা চাপ তৈরি করেছে।

১৯ আগস্ট আমস্টেলভিনের ওয়াগেনার হকি স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হয়েছিল ভারত ও পাকিস্তান। ম্যাচটি ছিল দুই দলের জন্যই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভারতকে অন্তত ড্র করতে পারলেই দ্বিতীয় রাউন্ডে যাওয়ার সুযোগ থাকলেও পাকিস্তানের সামনে ছিল কার্যত জিততেই হবে এমন পরিস্থিতি। শেষ পর্যন্ত আক্রমণাত্মক হকি খেলে ভারত ৫-৩ ব্যবধানে জয় তুলে নেয়। এই ফলের ফলে ভারত পুল ডি-তে দ্বিতীয় স্থানে থেকে পরের পর্বে জায়গা করে নেয় এবং পাকিস্তানের বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হয়ে যায়।

ম্যাচে ভারতের হয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেন অধিনায়ক হরমনপ্রীত সিং এবং অভিষেক। দু’জনেই জোড়া গোল করেন। হরমনপ্রীত পেনাল্টি কর্নার থেকে দু’বার গোল করে ভারতকে এগিয়ে দেন। অভিষেকও অসাধারণ আক্রমণাত্মক দক্ষতা দেখিয়ে দু’টি ফিল্ড গোল করেন। ভারতের হয়ে আরও একটি গোল আসে হার্দিক সিংয়ের স্টিক থেকে। অন্যদিকে পাকিস্তানের হয়ে হান্নান শাহিদ দু’টি এবং সুফিয়ান খান একটি গোল করেন।

ম্যাচের শুরু থেকেই ভারত নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করে। প্রথম কোয়ার্টারে হরমনপ্রীত ও অভিষেকের গোলে ভারত ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। দ্বিতীয় কোয়ার্টারের শুরুতে হরমনপ্রীতের আরও একটি গোল ভারতের ব্যবধান বাড়িয়ে দেয়। কিন্তু পাকিস্তান হাল ছাড়েনি। হান্নান শাহিদের গোলে ব্যবধান কমার পর অভিষেক আবার গোল করেন। পাকিস্তানও দ্রুত পাল্টা গোল করে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করে। পরে হার্দিক সিং পেনাল্টি স্ট্রোক থেকে গোল করে ভারতকে আবার তিন গোলের ব্যবধানে এগিয়ে দেন। শেষ পর্যন্ত পাকিস্তান আরও একটি গোল করলেও ভারত জয় ধরে রাখে।

এই জয়ের ফলে পুল ডি-তে তিন ম্যাচে ভারতের পয়েন্ট দাঁড়ায় ছয়। তিন ম্যাচের তিনটিই জিতে ইংল্যান্ড নয় পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের শীর্ষে শেষ করেছে। ভারত জিতেছে ওয়েলস ও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে, আর ইংল্যান্ডের কাছে ২-৪ গোলে হেরেছে। ফলে ভারতের গোলপার্থক্য দাঁড়িয়েছে +২।

এখানেই ভারতের জন্য নতুন সমস্যার শুরু। ২০২৬ বিশ্বকাপে পুরনো পদ্ধতির মতো সরাসরি কোয়ার্টার ফাইনাল নেই। প্রথম পর্বের চারটি পুল থেকে সেরা দুই দল করে মোট আটটি দল দ্বিতীয় রাউন্ডে যাবে। এই আট দলকে দুটি নতুন পুলে ভাগ করা হবে। দ্বিতীয় রাউন্ডের প্রতিটি পুল থেকে শীর্ষ দুই দল সরাসরি সেমিফাইনালে জায়গা পাবে। অর্থাৎ ভারতের সামনে এখন সেমিফাইনালে ওঠার জন্য দ্বিতীয় রাউন্ডের লড়াই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তবে নতুন নিয়মের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, প্রথম পর্বে একই পুল থেকে দ্বিতীয় রাউন্ডে ওঠা দুই দলের মধ্যকার ম্যাচের পয়েন্ট পরের পর্বে বহন করা হবে। ভারতের ক্ষেত্রে এই নিয়মটি বড় অসুবিধা তৈরি করেছে। কারণ পুল ডি থেকে ভারত ও ইংল্যান্ড — দুই দলই দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠেছে। ইংল্যান্ড ভারতকে হারিয়েছিল। ফলে ইংল্যান্ড তিন পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডে যাবে, কিন্তু ভারত সেই ম্যাচে হারায় শূন্য পয়েন্ট নিয়ে নতুন পর্ব শুরু করবে।

অর্থাৎ প্রথম পর্বে ছয় পয়েন্ট সংগ্রহ করেও ভারত দ্বিতীয় রাউন্ডের শুরুতে সেই ছয় পয়েন্টের সুবিধা পাচ্ছে না। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে পাওয়া তিন পয়েন্টও সরাসরি পরের পর্বে যোগ হচ্ছে না, কারণ পাকিস্তান দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠতে পারেনি। ওয়েলসও পরের পর্বে নেই। ফলে ভারতের হাতে থাকা ছয় পয়েন্টের মধ্যে বহনযোগ্য পয়েন্ট কার্যত শূন্য।

এই জায়গাতেই ভারতের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ। দ্বিতীয় রাউন্ডে তাদের মুখোমুখি হতে হবে পুল এ থেকে উঠে আসা দুই দলের বিরুদ্ধে। ভারতের পরবর্তী পর্বের ম্যাচগুলোর ফলই ঠিক করবে তারা সেমিফাইনালের লড়াইয়ে কতটা এগিয়ে থাকবে। পুল এ-র সেরা দলগুলোর বিরুদ্ধে জেতা বা অন্তত গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট সংগ্রহ করা এখন ভারতের জন্য অত্যন্ত জরুরি।

তবে ভারতের আত্মবিশ্বাসের জায়গাও কম নয়। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে পাঁচ গোল করা দেখিয়েছে যে দলের আক্রমণভাগ যথেষ্ট কার্যকর। হরমনপ্রীত ও অভিষেকের ফর্ম ভারতকে বড় সুবিধা দিতে পারে। বিশেষ করে পেনাল্টি কর্নারে হরমনপ্রীতের কার্যকারিতা এবং অভিষেকের আক্রমণাত্মক গতি পরের ম্যাচগুলিতে ভারতের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র হয়ে উঠতে পারে।

কিন্তু একই সঙ্গে রক্ষণ নিয়ে কিছু প্রশ্নও থেকে যাচ্ছে। পাকিস্তানের মতো দলের বিরুদ্ধে তিন গোল হজম করা দেখিয়েছে যে ভারতকে পরের পর্বে আরও সংগঠিতভাবে খেলতে হবে। প্রতিপক্ষ যদি আরও শক্তিশালী দল হয়, তাহলে এমন ভুলের খেসারত দিতে হতে পারে। ম্যাচের পর ভারতের অধিনায়ক হরমনপ্রীতও দলের কিছু ভুল নিয়ে সতর্ক করেছেন।

সব মিলিয়ে পাকিস্তানকে হারিয়ে ভারত বিশ্বকাপের সেরা আট দলের মধ্যে জায়গা করে নিয়েছে, যা নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য। কিন্তু এই জয়কে সেমিফাইনালের নিশ্চয়তা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং ভারতের সামনে এখন নতুন করে লড়াই শুরু হচ্ছে। শূন্য পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় রাউন্ড শুরু করায় প্রথম ম্যাচ থেকেই পয়েন্ট সংগ্রহ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

ভারতের জন্য সমীকরণ তাই পরিষ্কার — পাকিস্তানকে হারিয়ে পরের দরজা খুলেছে, কিন্তু সেমিফাইনালে যেতে হলে এখন আরও বড় দুই পরীক্ষায় সফল হতে হবে। আক্রমণের ধার বজায় রেখে রক্ষণ শক্ত করতে পারলে হরমনপ্রীত সিংয়ের নেতৃত্বাধীন দল সেমিফাইনালের লড়াইয়ে জোরালোভাবে টিকে থাকতে পারে। আর যদি প্রথম ম্যাচেই পয়েন্ট হারায়, তাহলে চাপ দ্রুত বেড়ে যাবে।

ভারত এখন বিশ্বকাপের এমন এক পর্যায়ে দাঁড়িয়ে, যেখানে প্রতিটি গোল, প্রতিটি পয়েন্ট এবং প্রতিটি ম্যাচের ফল শেষ পর্যন্ত সেমিফাইনালের ভাগ্য নির্ধারণ করতে পারে। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে জয় তাই ভারতের জন্য শেষ সাফল্য নয় — বরং বিশ্বকাপের আরও কঠিন লড়াইয়ে প্রবেশের টিকিট।

- Advertisement -

এই রকম আরও

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here


- Advertisement -

সাম্প্রতিক খবর

- Advertisement -