হাবড়া থেকে ধৃত পাক নাগরিক রানা রউফ : ISI-যোগের অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য

- Advertisement -

হাবড়া থেকে পাকিস্তানি নাগরিক রানা রউফ ওরফে ওয়াহাব আলমকে গ্রেফতার করেছে পশ্চিমবঙ্গ STF। তদন্তকারীদের দাবি, তিনি দীর্ঘদিন ভুয়ো পরিচয়ে ভারতে ছিলেন এবং তাঁর সঙ্গে ISI-এর যোগাযোগ থাকতে পারে। ভারতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ ও বাংলাদেশ হয়ে পালানোর পরিকল্পনার অভিযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগে কলকাতা থেকে আরও একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

হাবড়া থেকে ধৃত পাক নাগরিক রানা রউফ : ISI-যোগের অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য
Symbolic Image

উত্তর ২৪ পরগনার হাবড়া থেকে পাকিস্তানি নাগরিক রানা রউফ ওরফে ওয়াহাব আলমকে গ্রেফতার ঘিরে রাজ্যজুড়ে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স বা STF-এর হাতে গ্রেফতার হওয়া এই ব্যক্তিকে ঘিরে তদন্তে উঠে আসছে একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য। তদন্তকারীদের প্রাথমিক দাবি, দীর্ঘদিন ধরে ভারতে ভুয়ো পরিচয়ে বসবাস করছিলেন তিনি। একই সঙ্গে পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা ISI-এর সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ ছিল কি না, ভারতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছিল কি না এবং বাংলাদেশ হয়ে পালানোর পরিকল্পনার নেপথ্যে কোনও নেটওয়ার্ক কাজ করছিল কি না — এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তদন্তকারীদের দাবি অনুযায়ী, রানা রউফ পাকিস্তানের ফয়সালাবাদের বাসিন্দা। প্রায় ১৪ বছর আগে নেপাল হয়ে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে। এরপর পশ্চিমবঙ্গে বসবাসের সময় তিনি ‘ওয়াহাব আলম’ নামে পরিচয় ব্যবহার করতেন বলে অভিযোগ। তাঁর কাছে ভারতীয় পরিচয়পত্রের নথি কীভাবে এল, সেগুলি বৈধভাবে তৈরি হয়েছিল কি না এবং এর পিছনে কোনও সহযোগী চক্র ছিল কি না, তা নিয়েও তদন্ত চলছে।

হাবড়ায় কীভাবে ধরা পড়লেন রানা রউফ?

তদন্ত সূত্রে জানা যাচ্ছে, পশ্চিমবঙ্গ থেকে বাংলাদেশে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন রানা রউফ। সেই সময়ই STF তাঁর গতিবিধির উপর নজর রাখে এবং হাবড়া এলাকায় তাঁকে আটক করে। সীমান্ত পারাপারের জন্য কোনও দালাল বা মধ্যস্থতাকারীর সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ ছিল কি না, সেই বিষয়টিও তদন্তের আওতায় রয়েছে।

তদন্তকারীদের সন্দেহ, বাংলাদেশকে ব্যবহার করে তিনি অন্য কোনও দেশে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তাঁর সঙ্গে বাংলাদেশে কারা যোগাযোগ রাখতেন এবং সীমান্তের ওপারে তাঁর কোনও পরিচিত বা সহযোগী রয়েছে কি না — এই প্রশ্নগুলির উত্তর খুঁজছেন তদন্তকারীরা।

ISI-এর সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগ

রানা রউফকে ঘিরে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ তাঁর কথিত ISI-যোগ। STF-এর তদন্তে তাঁর পাকিস্তানি যোগাযোগের বিষয়টি সামনে এসেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। ভারতীয় সেনা, নৌবাহিনী ও রেলের গতিবিধি সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের অভিযোগও তদন্তকারীদের নজরে রয়েছে।

তবে এখানে একটি বিষয় স্পষ্ট করা জরুরি — রানা রউফকে ‘ISI-এর চর’ হিসেবে চিহ্নিত করার অভিযোগ এখনও আদালতে প্রমাণিত হয়নি। তদন্তকারী সংস্থার দাবি এবং আদালতে প্রমাণিত তথ্য এক বিষয় নয়। তাই তদন্ত সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে অভিযোগ হিসেবেই দেখা উচিত।

উদ্ধার নথি ও ফোন নম্বর ঘিরে তদন্ত

তদন্তকারীদের হাতে পাওয়া নথি এবং অন্যান্য সামগ্রীও এখন গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। একটি নোটবুকে একাধিক দেশের ফোন নম্বর থাকার কথা তদন্ত সূত্রে সামনে এসেছে। পাকিস্তান, বাংলাদেশ, নেপাল ও শ্রীলঙ্কার সঙ্গে সম্পর্কিত নম্বরগুলি কার এবং কেন সেখানে লেখা হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

রানা রউফের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও সিম কার্ড থেকেও কোনও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায় কি না, সেটি তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক। তাঁর যোগাযোগের তালিকা, কল রেকর্ড, আর্থিক লেনদেন এবং অনলাইন যোগাযোগের তথ্য বিশ্লেষণ করে তদন্তকারীরা তাঁর নেটওয়ার্ক সম্পর্কে ধারণা পাওয়ার চেষ্টা করছেন।

আরও একজনকে গ্রেফতার

রানা রউফকে জিজ্ঞাসাবাদের পর কলকাতার তপসিয়া এলাকা থেকে মহম্মদ ইজাজ নামে আরও একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, ইজাজের সঙ্গে রানা রউফের যোগাযোগ ছিল।

এই দ্বিতীয় গ্রেফতারির পর তদন্ত আরও বিস্তৃত হয়েছে। রানা রউফ ভারতে থাকার সময়ে আরও কতজনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন, তাঁর পরিচয় গোপন রাখতে কেউ সাহায্য করেছিল কি না এবং সীমান্ত পারাপারের ক্ষেত্রে কোনও সংগঠিত চক্র যুক্ত ছিল কি না — এসব বিষয় এখন তদন্তের কেন্দ্রবিন্দুতে।

কেন গুরুত্বপূর্ণ এই গ্রেফতার?

রানা রউফের ঘটনা শুধু একজন বিদেশি নাগরিকের বেআইনিভাবে ভারতে থাকার অভিযোগে সীমাবদ্ধ নয়। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা নিরাপত্তা সংক্রান্ত অভিযোগ সত্যি হলে বিষয়টি জাতীয় নিরাপত্তার দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

বিশেষ করে ভারতীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বা গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো সম্পর্কিত তথ্য কোনও বিদেশি সংস্থার হাতে পৌঁছেছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি দীর্ঘ সময় ধরে একজন পাকিস্তানি নাগরিক কীভাবে ভারতীয় পরিচয়ে পশ্চিমবঙ্গে অবস্থান করলেন, সেই প্রশ্নও প্রশাসনের সামনে বড় হয়ে উঠেছে।

তদন্তেই মিলবে চূড়ান্ত উত্তর

রানা রউফকে ঘিরে তদন্ত এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। তাঁর ভারতে প্রবেশের প্রকৃত পথ, পরিচয়পত্র পাওয়ার উৎস, পাকিস্তানি যোগাযোগ, কথিত ISI-যোগ, তথ্য সংগ্রহের অভিযোগ এবং বাংলাদেশে যাওয়ার পরিকল্পনা—প্রতিটি বিষয় আলাদাভাবে যাচাই করা হচ্ছে।

তদন্তের পরেই স্পষ্ট হবে, রানা রউফ একা কাজ করছিলেন নাকি তাঁর সঙ্গে আরও কোনও ব্যক্তি বা সংগঠিত নেটওয়ার্ক যুক্ত ছিল। একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা গুপ্তচরবৃত্তি ও তথ্য পাচারের অভিযোগের বাস্তব ভিত্তিও তদন্ত শেষ হওয়ার পরই পরিষ্কার হবে।

বর্তমানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, তদন্তকারীদের দাবিকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে না দেখে তদন্তের ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করা। আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত রানা রউফের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত গুরুতর অভিযোগকে আইনগতভাবে অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনা করতে হবে।

- Advertisement -

এই রকম আরও

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here


- Advertisement -

সাম্প্রতিক খবর

- Advertisement -