সূর্যে ভয়ঙ্কর বিস্ফোরণ! পৃথিবীর দিকে ছুটে আসছে CME! বড় বিপদের আশঙ্কা কি?

- Advertisement -

সূর্যের একটি শক্তিশালী ফিলামেন্ট বিস্ফোরণের পর বিপুল পরিমাণ প্লাজমা ও চৌম্বকীয় ক্ষেত্র মহাকাশে ছিটকে বেরিয়েছে। এই করোনাল মাস ইজেকশন বা CME ১৭ সেপ্টেম্বরের কাছাকাছি পৃথিবীর চৌম্বকক্ষেত্রে পৌঁছাতে পারে। এর ফলে ছোট মাত্রার জিওম্যাগনেটিক ঝড় এবং উচ্চ অক্ষাংশে অরোরা দেখা দিতে পারে। তবে বর্তমানে সাধারণ মানুষের জন্য বড় ধরনের বিপদের কোনও আশঙ্কা নেই। বিজ্ঞানীরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।

সূর্যে ভয়ঙ্কর বিস্ফোরণ! পৃথিবীর দিকে ছুটে আসছে CME! বড় বিপদের আশঙ্কা কি?

সূর্যের বুকে ফের বড়সড় অস্থিরতা। সূর্যের পৃষ্ঠে একটি শক্তিশালী solar filament eruption-এর পর মহাকাশে বিপুল পরিমাণ উত্তপ্ত প্লাজমা ও চৌম্বকীয় ক্ষেত্র ছিটকে বেরিয়েছে। এই নির্গত পদার্থের একটি অংশ পৃথিবীর দিকে এগিয়ে আসছে বলে জানিয়েছে মহাকাশ আবহাওয়া পর্যবেক্ষণকারী সংস্থাগুলি। বর্তমান পূর্বাভাস অনুযায়ী, এই Coronal Mass Ejection বা CME ১৭ সেপ্টেম্বরের কাছাকাছি পৃথিবীর চৌম্বকক্ষেত্রের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া করতে পারে। এর ফলে তৈরি হতে পারে ছোট মাত্রার geomagnetic storm।

কী ঘটেছে সূর্যের বুকে?

সূর্যের বায়ুমণ্ডলে থাকা বিশাল চৌম্বকীয় কাঠামোর মধ্যে একটি অংশকে বলা হয় solar filament। এগুলিতে তুলনামূলকভাবে ঠান্ডা ও ঘন প্লাজমা চৌম্বকীয় ক্ষেত্রের সাহায্যে আটকে থাকে। কোনও কারণে এই চৌম্বকীয় ভারসাম্য নষ্ট হলে filament বিস্ফোরণের মতো করে মহাকাশে ছিটকে যেতে পারে।

সাম্প্রতিক ঘটনাতেও এমন একটি filament eruption-এর পর মহাকাশে সৌর পদার্থের একটি মেঘ ছড়িয়ে পড়ে। পর্যবেক্ষণ ও মডেলিংয়ের ভিত্তিতে বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, ওই CME-র একটি অংশ পৃথিবীর দিকে এগিয়ে আসছে। ১৫ সেপ্টেম্বরের এই ঘটনাটি নিয়ে প্রকাশিত সর্বশেষ আপডেটে ১৭ সেপ্টেম্বর পৃথিবীর কাছে এর সম্ভাব্য আগমনের কথা বলা হয়েছে।

CME আসলে কী?

Coronal Mass Ejection বা CME হল সূর্যের করোনা বা বহিঃবায়ুমণ্ডল থেকে বিপুল পরিমাণ প্লাজমা এবং চৌম্বকীয় ক্ষেত্রের বিস্ফোরণধর্মী নির্গমন। NOAA-র তথ্য অনুযায়ী, একটি CME-তে কয়েক বিলিয়ন টন পর্যন্ত সৌর পদার্থ থাকতে পারে। এগুলির গতিবেগ পরিস্থিতি অনুযায়ী ঘণ্টায় অত্যন্ত দ্রুত পরিবর্তিত হতে পারে; দ্রুততম CME-গুলি পৃথিবীতে ১৫ থেকে ১৮ ঘণ্টার মধ্যেও পৌঁছাতে পারে, যদিও অনেক CME-র ক্ষেত্রে সময় লাগে কয়েক দিন।

পৃথিবীর দিকে আসা CME আমাদের গ্রহের নিজস্ব চৌম্বকক্ষেত্রের সঙ্গে ধাক্কা খেলে geomagnetic storm তৈরি হতে পারে। ঝড়ের তীব্রতা নির্ভর করে CME-র গতি, ঘনত্ব এবং বিশেষ করে তার চৌম্বকীয় ক্ষেত্রের অভিমুখের মতো একাধিক বিষয়ের ওপর।

১৭ সেপ্টেম্বর কী হতে পারে?

বর্তমান মডেল অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর ১৭ নাগাদ এই CME পৃথিবীর কাছে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। প্রাথমিক পূর্বাভাসে এর সম্ভাব্য প্রভাবকে G1 বা Minor geomagnetic storm পর্যায়ের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ এটি সৌরঝড়ের তুলনামূলক দুর্বল স্তর।

EarthSky-র সর্বশেষ আপডেট অনুযায়ী, CME-টির আগমনের সঙ্গে উচ্চ অক্ষাংশের অঞ্চলে aurora দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। তবে CME ঠিক কতটা শক্তিশালীভাবে পৃথিবীর চৌম্বকক্ষেত্রে আঘাত করবে, তা আগে থেকে সম্পূর্ণ নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।

অরোরা দেখা যেতে পারে কোথায়?

Geomagnetic storm-এর অন্যতম আকর্ষণীয় ফল হল Aurora Borealis বা Northern Lights। পৃথিবীর মেরু অঞ্চলের কাছে সূর্য থেকে আসা চার্জযুক্ত কণার সঙ্গে বায়ুমণ্ডলের গ্যাসের মিথস্ক্রিয়ায় আকাশে সবুজ, লাল, বেগুনি বা অন্যান্য রঙের আলো দেখা যায়।

এই CME-র ক্ষেত্রে সম্ভাব্য Aurora মূলত উচ্চ অক্ষাংশের এলাকাগুলিতে দেখা যাওয়ার কথা। তাই ভারত বা দক্ষিণ এশিয়ার অধিকাংশ জায়গা থেকে এই ঘটনার দৃশ্যমান প্রভাব পাওয়ার সম্ভাবনা কম।

পৃথিবীর প্রযুক্তি ব্যবস্থায় কি প্রভাব পড়তে পারে?

সৌরঝড়ের প্রভাব শুধু আকাশের আলোতেই সীমাবদ্ধ নয়। শক্তিশালী geomagnetic storm হলে পৃথিবীর কাছাকাছি মহাকাশ পরিবেশে পরিবর্তন তৈরি হতে পারে। এর প্রভাব পড়তে পারে স্যাটেলাইট, GPS, রেডিও যোগাযোগ এবং কিছু বিদ্যুৎ-পরিকাঠামোর ওপর।

NOAA-র Space Weather Prediction Center-এর তথ্য অনুযায়ী, geomagnetic storm-এর সময় বিশেষ করে উচ্চ অক্ষাংশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা এবং স্যাটেলাইট পরিচালনার ক্ষেত্রে সতর্কতা প্রয়োজন হতে পারে। HF radio communication-ও সৌর কার্যকলাপের কারণে বিঘ্নিত হতে পারে।

তবে বর্তমান ঘটনাটিকে G1 পর্যায়ের সম্ভাব্য ঝড় হিসেবে দেখা হচ্ছে। তাই এই মুহূর্তে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটবে — এমন কোনও তথ্য নেই। CME-টির প্রকৃত প্রভাব পৃথিবীর কাছে পৌঁছানোর পরই আরও পরিষ্কার হবে।

কেন পূর্বাভাসে অনিশ্চয়তা থাকে?

সৌরঝড়ের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সমস্যা হল, সূর্য থেকে CME বেরোনোর পর সেটি মহাকাশে কীভাবে পরিবর্তিত হবে তা সবসময় নিখুঁতভাবে অনুমান করা যায় না। CME পৃথিবীর দিকে আসার সময় তার গতি, ঘনত্ব এবং চৌম্বকীয় বৈশিষ্ট্য বদলাতে পারে।

বিশেষ করে CME-র চৌম্বকীয় ক্ষেত্র পৃথিবীর চৌম্বকক্ষেত্রের তুলনায় কোন দিকে অবস্থান করছে, সেটি ঝড়ের তীব্রতা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। ফলে প্রাথমিক মডেল কোনও সম্ভাব্য প্রভাবের ইঙ্গিত দিলেও বাস্তবে পৃথিবীতে পৌঁছানোর পর পরিস্থিতি কিছুটা আলাদা হতে পারে।

আতঙ্কের কারণ আছে কি?

বর্তমান তথ্য অনুযায়ী আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। এটি মহাকাশ আবহাওয়ার একটি পর্যবেক্ষণযোগ্য ঘটনা এবং বিজ্ঞানীরা নিয়মিতভাবে সূর্যের কার্যকলাপ ও পৃথিবীর চৌম্বকক্ষেত্রের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।

NOAA-র Space Weather Prediction Center বর্তমানে সূর্য, সৌরবায়ু, CME, geomagnetic activity এবং Aurora-সহ বিভিন্ন সূচক পর্যবেক্ষণ করে। পৃথিবীর যোগাযোগ ব্যবস্থা, স্যাটেলাইট, বিমান চলাচল, GPS এবং বিদ্যুৎ ব্যবস্থার সঙ্গে space weather-এর সম্পর্ক থাকায় এই পর্যবেক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ।

সামনে কী নজরে থাকবে?

১৭ সেপ্টেম্বরের সম্ভাব্য CME আগমনের সময় বিজ্ঞানীদের মূল নজর থাকবে পৃথিবীর geomagnetic activity-র মাত্রার দিকে। CME পৃথিবীর চৌম্বকক্ষেত্রে আঘাত করার পরই বোঝা যাবে এর প্রকৃত শক্তি কতটা।

যদি পূর্বাভাস অনুযায়ী দুর্বল geomagnetic storm তৈরি হয়, তাহলে উচ্চ অক্ষাংশে Aurora দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা বাড়তে পারে। অন্যদিকে ঝড়ের মাত্রা প্রত্যাশার চেয়ে বেশি হলে স্যাটেলাইট, রেডিও যোগাযোগ বা অন্যান্য প্রযুক্তিগত ব্যবস্থার ওপর সীমিত প্রভাব পড়ার সম্ভাবনাও থাকতে পারে।

সব মিলিয়ে, সূর্যের সাম্প্রতিক বিস্ফোরণ বিজ্ঞানীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি space-weather event। আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার পর্যবেক্ষণেই পরিষ্কার হবে CME-টি পৃথিবীর চৌম্বকক্ষেত্রে কতটা প্রভাব ফেলছে। আপাতত ১৭ সেপ্টেম্বরকে ঘিরে নজর রয়েছে বিজ্ঞানী ও মহাকাশ আবহাওয়া পর্যবেক্ষকদের।

- Advertisement -

এই রকম আরও

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here


- Advertisement -

সাম্প্রতিক খবর

- Advertisement -