ইন্দোনেশিয়ায় ৭.৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, সুনামি সতর্কতা জারি, বাড়ছে হতাহত

- Advertisement -

ইন্দোনেশিয়ার ফ্লোরেস দ্বীপের কাছে ৭.৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে ব্যাপকভাবে কেঁপে ওঠে পূর্বাঞ্চল। ভূমিকম্পের পর সম্ভাব্য সুনামির আশঙ্কায় উপকূলীয় এলাকায় সতর্কতা জারি করা হয়। বিভিন্ন স্থানে ভবন ক্ষতিগ্রস্ত ও ধসে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে। পরে সুনামি সতর্কতা প্রত্যাহার করা হলেও একাধিক আফটারশকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। উদ্ধার ও ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের কাজ অব্যাহত রয়েছে।

ইন্দোনেশিয়ায় ৭.৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, সুনামি সতর্কতা জারি, বাড়ছে হতাহত
Earthquake damage in Indonesia’s coastal region.

শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল ইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চল। শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬ ভোরে ফ্লোরেস দ্বীপের কাছে সমুদ্রের নিচে আঘাত হানে ৭.৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প। ভূমিকম্পের পরপরই সম্ভাব্য সুনামির আশঙ্কায় উপকূলবর্তী এলাকায় সতর্কতা জারি করা হয়। পরে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পর সেই সতর্কতা প্রত্যাহার করা হয়েছে। তবে ভূমিকম্পের পর একাধিক শক্তিশালী আফটারশক অনুভূত হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক অব্যাহত রয়েছে।

ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া, জলবায়ু ও ভূ-পদার্থবিদ্যা সংস্থা BMKG জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৭.৭ এবং এর গভীরতা ছিল প্রায় ১৫ কিলোমিটার। সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল নেজেকেও (Nagekeo) এলাকার এমবায়ের প্রায় ৩০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে।

ভূমিকম্পটি অগভীর হওয়ায় এর কম্পন আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় শক্তিশালীভাবে অনুভূত হয়। ফ্লোরেস দ্বীপের বিভিন্ন শহর ও জনপদে মানুষ আতঙ্কে বাড়িঘর ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে আসে। কিছু এলাকায় ভবন ও বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। মাউমেরে বন্দরের একটি ভবনের অংশ ধসে পড়ার দৃশ্যও প্রকাশ্যে এসেছে।

হতাহতের খবর, বাড়ছে ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা

ভূমিকম্পের পরপরই হতাহতের সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন সংস্থার হিসাবে পার্থক্য দেখা যায়। পূর্ব নুসা তেঙ্গারা প্রদেশের গভর্নর ইমানুয়েল মেলকিয়াদেস লাকা লেনা জানিয়েছেন, ধসে পড়া ধ্বংসাবশেষের নিচে চাপা পড়ে অন্তত পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা BNPB-এর প্রাথমিক হিসাবে একজনের মৃত্যুর পাশাপাশি চারজন আহত হওয়ার কথা জানানো হয়েছিল। উদ্ধারকাজ ও ক্ষয়ক্ষতির হিসাব চলতে থাকায় হতাহতের সংখ্যা আরও পরিবর্তিত হতে পারে।

মাউমেরে ও আশপাশের এলাকায় ভূমিকম্পের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে বহু মানুষ আতঙ্কে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন। কিছু স্থানে ভবনের অংশবিশেষ ধসে পড়ে। হাসপাতাল ও চিকিৎসাকেন্দ্রগুলোতেও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। কিছু রোগীকে নিরাপত্তার কারণে ভবনের বাইরে সরিয়ে নেওয়া হয় বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সুনামির আশঙ্কা ও সতর্কতা

ভূমিকম্পটির কেন্দ্র সমুদ্রের কাছাকাছি এবং অগভীর হওয়ায় কর্তৃপক্ষ দ্রুত সুনামির আশঙ্কা প্রকাশ করে। BMKG উপকূলবর্তী বেশ কয়েকটি অঞ্চলে সতর্কতা জারি করে এবং বাসিন্দাদের উঁচু ও নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

ভূমিকম্পের পর ইন্দোনেশিয়ার কয়েকটি উপকূলীয় এলাকায় ছোট আকারের সমুদ্রঢেউ রেকর্ড করা হয়। BMKG-এর তথ্য অনুযায়ী, মাউরোলে-এন্দে এলাকায় প্রায় ০.৯৪ মিটার উচ্চতার ঢেউ রেকর্ড হয়। এছাড়া লাবুয়ানবাজো, সিক্কা, ফ্লোরেস তিমুর এবং অন্যান্য এলাকাতেও ছোট ঢেউ শনাক্ত হয়।

তবে পরবর্তী পর্যবেক্ষণে বড় ধরনের সুনামির ঝুঁকি আর না থাকায় ভূমিকম্পের প্রায় তিন ঘণ্টা পর সতর্কতা প্রত্যাহার করা হয়। কর্তৃপক্ষ অবশ্য উপকূলীয় বাসিন্দাদের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে এবং আফটারশকের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে বলেছে।

একের পর এক আফটারশকে আতঙ্ক

প্রধান ভূমিকম্পের পর ফ্লোরেস অঞ্চলে একাধিক আফটারশক অনুভূত হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি কম্পনের মাত্রা ৫-এর ওপরে ছিল। একটি শক্তিশালী আফটারশকের মাত্রা ৬-এর কাছাকাছি ছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আফটারশকের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনে ফিরে যেতে অনেকেই দ্বিধায় রয়েছেন। উদ্ধারকারী দলগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে পরিস্থিতি মূল্যায়ন করছে। বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থার কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে সমস্যা তৈরি হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গেছে।

আতঙ্কে উপকূলীয় এলাকার মানুষ

ভূমিকম্পের পর নেজেকেওসহ কয়েকটি এলাকায় মানুষ দ্রুত নিরাপদ স্থানে চলে যায়। কোথাও কোথাও শত শত মানুষ উঁচু এলাকায় আশ্রয় নেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই ভূমিকম্পের তীব্রতা এবং দীর্ঘস্থায়ী কম্পনের কথা জানিয়েছেন।

ইন্দোনেশিয়ার লম্বক দ্বীপেও শক্তিশালী কম্পন অনুভূত হয়েছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভূমিকম্পের প্রভাব অনুভূত হওয়ায় মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

কেন এত ভূমিকম্প হয় ইন্দোনেশিয়ায়?

ইন্দোনেশিয়া বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ। দেশটি প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’ অঞ্চলে অবস্থিত। এই অঞ্চলে একাধিক ভূ-ত্বকীয় প্লেটের সক্রিয় গতিবিধি রয়েছে। ফলে ইন্দোনেশিয়ায় নিয়মিত ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ঘটে।

ফ্লোরেস দ্বীপ এবং পূর্ব নুসা তেঙ্গারা অঞ্চলও ভূমিকম্পের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মধ্যে পড়ে। অতীতেও এই অঞ্চলে শক্তিশালী ভূমিকম্প ও সুনামি ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির কারণ হয়েছে।

পরিস্থিতির দিকে নজর কর্তৃপক্ষের

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সুনামির প্রাথমিক সতর্কতা প্রত্যাহার করা হলেও উদ্ধার ও ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়নের কাজ চলছে। ধসে পড়া ভবন ও বাড়িঘরের পাশাপাশি অন্যান্য অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতির হিসাবও সংগ্রহ করা হচ্ছে।

কর্তৃপক্ষ বাসিন্দাদের ক্ষতিগ্রস্ত বা ফাটল ধরা ভবনে ফিরে না যাওয়ার এবং আফটারশকের ব্যাপারে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে উপকূলীয় এলাকায় সমুদ্রের আচরণ পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

৭.৭ মাত্রার এই ভূমিকম্প আবারও মনে করিয়ে দিল, ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে প্রস্তুতি ও দ্রুত সতর্কতা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, বড় ভূমিকম্পের পরবর্তী সময়ে আফটারশক হতে পারে। তাই পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলাই নিরাপদ।

- Advertisement -

এই রকম আরও

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here


- Advertisement -

সাম্প্রতিক খবর

- Advertisement -