ক্লাসরুমে ‘Fart Corner’! গ্যাস ছাড়তে আর অনুমতি নিতে হবে না পড়ুয়াদের

- Advertisement -

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ার একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে তৈরি হয়েছে মজার ‘Gas Station’ বা ‘Fart Corner’। শিক্ষিকা Candy Sydney-Browning-এর উদ্যোগে পড়ুয়ারা ক্লাসে গ্যাস ছাড়ার প্রয়োজন হলে নির্দিষ্ট জায়গায় গিয়ে তা মেটাতে পারে। এতে বাথরুমে যাওয়ার প্রয়োজন কমে এবং ক্লাসে ব্যাঘাতও কম হয়। সামাজিক মাধ্যমে ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর অভিনব এই উদ্যোগ নিয়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা।

ক্লাসরুমে ‘Fart Corner’! গ্যাস ছাড়তে আর অনুমতি নিতে হবে না পড়ুয়াদের

স্কুলের ক্লাসরুমে সাধারণত পড়াশোনা, পরীক্ষা, হোমওয়ার্ক কিংবা শিক্ষক-শিক্ষার্থীর নানা কার্যকলাপ নিয়েই ব্যস্ততা থাকে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে তৈরি হয়েছে এমন এক জায়গা, যার নাম শুনলেই অবাক হতে হয় — ‘Fart Corner’। তবে নামটি যতটা মজার, এর পেছনের উদ্দেশ্য ততটাই বাস্তব। শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক শারীরিক প্রয়োজন মেটাতে এবং ক্লাসের সময় নষ্ট না করতেই এই অভিনব ব্যবস্থা করেছেন এক শিক্ষিকা।

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের আটলান্টা এলাকার একটি elementary school-এর দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষিকা Candy Sydney-Browning নিজের শ্রেণিকক্ষে এই বিশেষ জায়গাটি তৈরি করেছেন। তিনি অবশ্য জায়গাটিকে সরাসরি ‘Fart Corner’ বলেন না। তাঁর দেওয়া মজার নাম ‘Gas Station’। আর সেখানে লাগানো হলুদ সাইনবোর্ডে লেখা রয়েছে ‘Gusty Winds Area’। পাশে রাখা হয়েছে air freshener বা দুর্গন্ধ কমানোর স্প্রে।

কীভাবে কাজ করে এই ‘Gas Station’?

ব্যবস্থাটি বেশ সহজ। কোনও পড়ুয়ার গ্যাস বের করার প্রয়োজন হলে তাকে হাত তুলে শিক্ষকের অনুমতি চাইতে হয় না। সে নিজের জায়গা থেকে উঠে শ্রেণিকক্ষের নির্দিষ্ট ওই কোণে যেতে পারে। সেখানে কিছুক্ষণ থেকে প্রয়োজন মিটিয়ে এবং চাইলে air freshener ব্যবহার করে আবার নিজের জায়গায় ফিরে আসে।

অর্থাৎ, এর জন্য কাউকে বাথরুমে যেতে হচ্ছে না, ক্লাসের বাইরে দাঁড়াতে হচ্ছে না এবং শিক্ষককেও মাঝপথে পড়ানো বন্ধ করে অনুমতি দিতে হচ্ছে না। শিক্ষিকার মতে, এই ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় সুবিধা হল — শিক্ষার্থীর স্বাভাবিক শারীরিক প্রয়োজন মিটলেও পড়াশোনায় ব্যাঘাত কমে যায়।

কেন এমন ব্যবস্থা করতে হল?

Candy Sydney-Browning-এর বক্তব্য অনুযায়ী, ছোটদের মধ্যে ক্লাস চলাকালীন গ্যাস বেরিয়ে যাওয়ার ঘটনা অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু তখন অনেক সময় অন্য পড়ুয়ারা বিষয়টি নিয়ে হাসাহাসি করে, কে গ্যাস ছেড়েছে তা নিয়ে আলোচনা শুরু করে অথবা একে অপরের কাছ থেকে দূরে সরে যেতে চায়। ফলে কয়েক সেকেন্ডের একটি স্বাভাবিক শারীরিক ঘটনা পুরো ক্লাসের মনোযোগ নষ্ট করতে পারে।

শিক্ষিকার কথায়, তিনি বিষয়টিকে লজ্জা বা হাসির কারণ হিসেবে না দেখে স্বাভাবিক শারীরিক প্রক্রিয়া হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করেছেন। তাঁর নিজেরও গন্ধের ব্যাপারে সংবেদনশীলতা রয়েছে। তাই সমস্যাটি সামলাতে একটি নির্দিষ্ট জায়গা তৈরি করার সিদ্ধান্ত নেন।

তাঁর যুক্তি, শিশুর শরীরে এমন প্রয়োজন তৈরি হলে সেটি নিয়ে অস্বস্তিতে থাকার বা অন্যদের সামনে বিব্রত হওয়ার দরকার নেই। তবে একইসঙ্গে ক্লাসরুমের পরিবেশ ও অন্য শিক্ষার্থীদের প্রতি সম্মান বজায় রাখাও জরুরি। তাই নির্দিষ্ট জায়গায় গিয়ে প্রয়োজন মেটানোর নিয়ম করা হয়েছে।

প্রথমে হাসাহাসি, পরে স্বাভাবিক

শিক্ষিকার বর্ণনা অনুযায়ী, শুরুতে কোনও পড়ুয়া ওই জায়গায় গেলে অন্যরা কৌতূহলী হয়ে তাকাত বা হাসত। কিন্তু ধীরে ধীরে বিষয়টি তাদের কাছে স্বাভাবিক হয়ে যায়। একসময় অন্য শিক্ষার্থীরা আর বিশেষ নজরই দিত না।

এখানেই শিক্ষিকার পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক রয়েছে। তিনি এমন পরিবেশ তৈরি করতে চেয়েছেন যেখানে শিশুরা নিজেদের স্বাভাবিক শারীরিক প্রয়োজন নিয়ে অযথা লজ্জা বা ভয় না পায়। একইসঙ্গে অন্যের ব্যক্তিগত বিষয় নিয়েও যেন হাসাহাসি না করে।

সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল

শ্রেণিকক্ষের এই অদ্ভুত ব্যবস্থার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করার পর বিষয়টি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে Candy Sydney-Browning তাঁর শ্রেণিকক্ষ দেখিয়ে জানান, কীভাবে পড়ুয়ারা নির্দিষ্ট জায়গায় গিয়ে প্রয়োজন মেটাতে পারে।

খবরটি ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক মাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। কেউ এটিকে অত্যন্ত বুদ্ধিমান classroom-management strategy বলে প্রশংসা করেছেন। তাঁদের মতে, ছোটদের স্বাভাবিক শারীরিক বিষয় নিয়ে অযথা লজ্জা না দিয়ে শৃঙ্খলার মধ্যে রাখার এটি সৃজনশীল উপায়।

অন্যদিকে, অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন — একজন শিক্ষার্থী যখন ক্লাসের মধ্যেই গ্যাস ছাড়তে যাবে, তখন অন্যরা কি সত্যিই পড়াশোনায় মনোযোগ ধরে রাখতে পারবে? কেউ কেউ আবার বলেছেন, একই কাজের জন্য বাথরুম বা ক্লাসরুমের বাইরে যাওয়াই বেশি উপযুক্ত।

একই ধরনের উদ্যোগ এবার টেক্সাসেও

মজার বিষয় হল, এই ঘটনা একেবারে বিচ্ছিন্ন নয়। টেক্সাসের Pearland এলাকার চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষিকা Valecia Broussard-ও নিজের শ্রেণিকক্ষে একই ধরনের ‘Fart Corner’ তৈরি করে সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়েছেন।

Broussard-এর শ্রেণিকক্ষে নির্দিষ্ট জায়গায় air freshener রাখা হয়েছে। কোনও পড়ুয়ার প্রয়োজন হলে সে সেখানে গিয়ে অল্প সময়ের মধ্যে ফিরে আসে। শিক্ষিকার মতে, এই ব্যবস্থার উদ্দেশ্য শুধু মজা করা নয়; বরং শিশুদের বোঝানো যে গ্যাস বের হওয়া মানুষের স্বাভাবিক শারীরিক প্রক্রিয়া। তবে সেই প্রয়োজন মেটানোর সময় অন্যদের প্রতি সম্মান দেখানোও গুরুত্বপূর্ণ।

মজার খবরের আড়ালে বড় শিক্ষা

‘Fart Corner’ নামটি নিঃসন্দেহে হাসির খোরাক তৈরি করেছে। কিন্তু এর পেছনে রয়েছে শিশুদের আচরণ, শ্রেণিকক্ষের শৃঙ্খলা এবং স্বাভাবিক শারীরিক প্রয়োজন নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

শিশুরা যে বিষয় নিয়ে হাসাহাসি করে বা লজ্জা পায়, সেটিকে কীভাবে স্বাভাবিকভাবে মোকাবিলা করা যায় — তারই একটি অদ্ভুত উদাহরণ এই উদ্যোগ। একইসঙ্গে শিক্ষকরা কীভাবে ছোটখাটো সমস্যার জন্য নিজেদের মতো করে কার্যকর সমাধান তৈরি করতে পারেন, সেটিও এই ঘটনা দেখিয়ে দিয়েছে।

তবে এই ব্যবস্থা সব স্কুল বা সব শ্রেণিকক্ষের জন্য উপযুক্ত কি না, তা নিয়ে বিতর্ক থাকতেই পারে। কারণ বয়স, শ্রেণিকক্ষের আকার, বায়ু চলাচল এবং স্কুলের নিজস্ব নিয়ম — সবকিছুই এখানে গুরুত্বপূর্ণ।

তবু একটি বিষয় নিশ্চিত — একটি ছোট্ট শ্রেণিকক্ষের ‘Gas Station’ এখন আন্তর্জাতিক সামাজিক মাধ্যমে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। আর একটি সাধারণ শারীরিক প্রয়োজনকে ঘিরে তৈরি এই অদ্ভুত উদ্যোগ প্রমাণ করেছে, কখনও কখনও সবচেয়ে মজার খবরের মধ্যেও লুকিয়ে থাকতে পারে শিশুদের নিয়ে ভাবার এক নতুন পদ্ধতি।

- Advertisement -

এই রকম আরও

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here


- Advertisement -

সাম্প্রতিক খবর

- Advertisement -