ঝাড়খণ্ডে সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষা ঘিরে অনিয়মের অভিযোগে ছাত্র ও চাকরিপ্রার্থীদের আন্দোলন অব্যাহত। JPSC প্রিলিমিনারি পরীক্ষা বাতিল, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার দাবি জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। সরকারের সঙ্গে একাধিক দফায় আলোচনা হলেও এখনও সমাধান হয়নি। দেবেন্দ্র নাথ মাহাতোর অনশনও চলছে। ১০ আগস্ট বিধানসভা ঘেরাও কর্মসূচিকে ঘিরে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষা ঘিরে অনিয়মের অভিযোগ, পরীক্ষার স্বচ্ছতা এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে ঝাড়খণ্ডে ছাত্র ও চাকরিপ্রার্থীদের আন্দোলন এখনও অব্যাহত। রাজ্য সরকারের সঙ্গে একাধিক দফায় আলোচনা হলেও আন্দোলনকারীদের গুরুত্বপূর্ণ দাবিগুলি নিয়ে এখনও পূর্ণ সমঝোতা হয়নি। ফলে বিক্ষোভ, অবস্থান এবং অনশন কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আন্দোলনকারীদের একাংশ।
JPSC এবং JSSC-এর বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষা ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। প্রশ্নফাঁস, পরীক্ষার পরিচালনায় অনিয়ম এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাবের মতো অভিযোগ সামনে এনে আন্দোলনকারীরা প্রশাসনের কাছে কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানাচ্ছেন। তাঁদের বক্তব্য, সরকারি চাকরির মতো গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনও ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠলে তার নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
সরকারের সঙ্গে বৈঠক, তবুও মেলেনি সমাধান
আন্দোলন পরিস্থিতি সামাল দিতে রাজ্য সরকার বিক্ষোভকারীদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় বসেছে। ৮ আগস্টও সরকার ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে দ্বিতীয় দফার আলোচনা হয়। কিন্তু বৈঠকের পরও গুরুত্বপূর্ণ দাবিগুলির বিষয়ে চূড়ান্ত সমাধান হয়নি।
আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, আলোচনায় বসা অবশ্যই ইতিবাচক পদক্ষেপ। কিন্তু শুধু আলোচনার আশ্বাসে আন্দোলন প্রত্যাহার করা সম্ভব নয়। তাঁরা চান, পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে নির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত নেওয়া হোক এবং পরীক্ষার্থীদের আস্থা ফেরাতে দৃশ্যমান পদক্ষেপ করা হোক।
সরকারের তরফেও বিষয়টি আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা চলছে। পরীক্ষাব্যবস্থা নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের মতামত নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় সংস্কারের বিষয়েও উদ্যোগের কথা সামনে এসেছে। তবে এখনও পর্যন্ত আন্দোলনকারীদের সব দাবি মেনে নেওয়া হয়নি।
JPSC প্রিলিমিনারি পরীক্ষা বাতিলের দাবি
আন্দোলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দাবি হল JPSC-এর ১৪তম সিভিল সার্ভিস প্রিলিমিনারি পরীক্ষা বাতিল করে নতুন করে পরীক্ষা নেওয়া। পরীক্ষার ফল ও পরিচালন পদ্ধতি নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, তার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিও করছেন আন্দোলনকারীরা।
তাঁদের যুক্তি, পরীক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নির্ভর করে এই ধরনের প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার ওপর। ফলে কোনও অনিয়মের অভিযোগ থাকলে তার দ্রুত এবং নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার বিষয়ে পুনর্বিবেচনা করার দাবিও উঠেছে।
আন্দোলনকারীদের একটি অংশ বিচারবিভাগীয় তদন্তের দাবিও জানিয়েছে। তাঁদের মতে, কোনও স্বাধীন তদন্তকারী সংস্থার মাধ্যমে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হলে পরীক্ষার্থীদের মধ্যে আস্থা বাড়বে।
অনশনে দেবেন্দ্র নাথ মাহাতো
ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ দেবেন্দ্র নাথ মাহাতো অনশন কর্মসূচিতে রয়েছেন। নিয়োগ পরীক্ষা এবং পরীক্ষাব্যবস্থায় স্বচ্ছতার দাবিতে তাঁর এই কর্মসূচি আন্দোলনকে আরও আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।
আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, দীর্ঘ সময় ধরে অনশন চলায় তাঁর শারীরিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সরকারের সঙ্গে তাঁর নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের আলোচনাও হয়েছে। কিন্তু আলোচনার পরও অনশন বা আন্দোলন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
আন্দোলনকারীদের দাবি, সরকারকে শুধু আলোচনায় সীমাবদ্ধ না থেকে তাঁদের দাবিগুলি নিয়ে কার্যকর সিদ্ধান্ত নিতে হবে। লিখিত বা স্পষ্ট আশ্বাস না পাওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার অবস্থান নিয়েছেন তাঁদের একাংশ।
ছাত্রদের আন্দোলনে রাজনৈতিক সমর্থন
নিয়োগ পরীক্ষা নিয়ে ছাত্র ও চাকরিপ্রার্থীদের অসন্তোষ ধীরে ধীরে রাজনৈতিক পরিসরেও প্রভাব ফেলছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের নেতারা আন্দোলনকারীদের পাশে দাঁড়ানোর কথা জানিয়েছেন।
JLKM নেতা ও বিধায়ক জয়ারাম মাহাতোও ছাত্রদের দাবির সমর্থনে অনশন কর্মসূচির ঘোষণা করেছেন। ফলে আন্দোলনকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপও বাড়ছে।
বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির একাংশও রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তুলেছে। তাদের বক্তব্য, চাকরির পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগকে হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই। পরীক্ষার্থীদের স্বার্থে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।
তবে রাজনৈতিক সমর্থনের পাশাপাশি আন্দোলনের মূল বিষয় এখনও নিয়োগ পরীক্ষা এবং পরীক্ষার্থীদের দাবি। ফলে আগামী দিনে সরকার কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
১০ আগস্টের কর্মসূচি ঘিরে নজর
আন্দোলনের পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ দিন হিসেবে ১০ আগস্টের দিকে নজর রয়েছে। আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে বিধানসভা ঘেরাওয়ের কর্মসূচির কথা জানানো হয়েছে।
এই কর্মসূচি ঘিরে রাঁচিতে প্রশাসনিক প্রস্তুতিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বড় সংখ্যায় ছাত্র ও চাকরিপ্রার্থী রাস্তায় নামলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামলানো প্রশাসনের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে।
অন্যদিকে আন্দোলনকারীরা শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালনের কথা বললেও পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে, তা নিয়ে আগ্রহ রয়েছে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে।
সরকারের সামনে কঠিন সমীকরণ
ঝাড়খণ্ড সরকারের সামনে এখন দুটি বড় চ্যালেঞ্জ। প্রথমত, পরীক্ষার্থীদের অভিযোগের বিশ্বাসযোগ্য সমাধান করা। দ্বিতীয়ত, নিয়োগ পরীক্ষার প্রক্রিয়া যাতে অযথা দীর্ঘায়িত না হয়, তা নিশ্চিত করা।
কোনও পরীক্ষা বাতিল করে নতুন করে পরীক্ষা নেওয়া হলে প্রশাসনিকভাবে বড় ধরনের প্রস্তুতি প্রয়োজন হবে। এতে পরীক্ষার্থীদের সময় ও অর্থের পাশাপাশি নিয়োগ প্রক্রিয়াতেও বিলম্ব হতে পারে। আবার অভিযোগের যথাযথ তদন্ত না হলে পরীক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে সরকারের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান খুঁজে বের করা। আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা চললেও এখনও পর্যন্ত আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পূর্ণ ঐকমত্য তৈরি হয়নি।
এখন কী হতে পারে?
ঝাড়খণ্ডের ছাত্র আন্দোলন এখন এমন একটি পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে সরকারের পরবর্তী সিদ্ধান্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একদিকে চলছে আলোচনার প্রক্রিয়া, অন্যদিকে অনশন ও বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। ১০ আগস্টের কর্মসূচি পরিস্থিতিকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলতে পারে।
সরকার যদি আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবিগুলির বিষয়ে দ্রুত ও স্পষ্ট সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে আলোচনায় অগ্রগতি না হলে আন্দোলন আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে।
সব মিলিয়ে, ঝাড়খণ্ডে নিয়োগ পরীক্ষা ঘিরে ছাত্র ও চাকরিপ্রার্থীদের আন্দোলনের এখনও কোনও চূড়ান্ত সমাধান হয়নি। সরকারের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে, কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ দাবিগুলি নিয়ে মতপার্থক্য রয়ে গেছে। ফলে আপাতত আন্দোলন অব্যাহত এবং আগামী কয়েক দিন ঝাড়খণ্ডের ছাত্র আন্দোলনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে।

