স্বাস্থ্য : হার্ট অ্যাটাকের আগে শরীর দিতে পারে যে সতর্ক সংকেত, কী করবেন তখন?

- Advertisement -

হার্ট অ্যাটাকের আগে অনেকের শরীরে সতর্ক সংকেত দেখা দিতে পারে, যেমন বুকের চাপ বা ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, অস্বাভাবিক ক্লান্তি, ঠান্ডা ঘাম, মাথা ঘোরা, বমি বমি ভাব এবং হাত, পিঠ, ঘাড় বা চোয়ালে ব্যথা। তবে সবার ক্ষেত্রে লক্ষণ এক নয়। এমন উপসর্গ দেখা দিলে অপেক্ষা না করে দ্রুত জরুরি চিকিৎসা নেওয়া জরুরি। ভারতে প্রয়োজনে ১১২ নম্বরে ফোন করে অ্যাম্বুলেন্সের সাহায্য নেওয়া উচিত।

স্বাস্থ্য : হার্ট অ্যাটাকের আগে শরীর দিতে পারে যে সতর্ক সংকেত, কী করবেন তখন?

হার্ট অ্যাটাককে অনেকেই হঠাৎ ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা বলে মনে করেন। বাস্তবে কিছু ক্ষেত্রে এর আগে শরীর বিভিন্ন সতর্ক সংকেত দিতে পারে। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল — প্রত্যেক মানুষের ক্ষেত্রে একই ধরনের লক্ষণ দেখা যায় না। আবার অনেকের ক্ষেত্রে কোনো পূর্বাভাস ছাড়াই হার্ট অ্যাটাক হতে পারে। তাই সম্ভাব্য লক্ষণগুলো সম্পর্কে সচেতন থাকা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

হার্ট অ্যাটাক সাধারণত তখন ঘটে, যখন হৃদপিণ্ডের পেশিতে রক্ত সরবরাহকারী কোনও ধমনি আংশিক বা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ সময় রক্ত ও অক্সিজেনের সরবরাহ ব্যাহত হলে হৃদপেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুরু করে। এই কারণে হার্ট অ্যাটাকের ক্ষেত্রে চিকিৎসা যত দ্রুত শুরু করা যায়, ততই ভালো।

কী কী লক্ষণ দেখা দিতে পারে?

হার্ট অ্যাটাকের সবচেয়ে পরিচিত লক্ষণ হল বুকের মাঝখানে অস্বস্তি। বুক ভারী লাগা, চাপ বা চেপে ধরার মতো অনুভূতি, জ্বালাপোড়া কিংবা ব্যথা হতে পারে। এই অস্বস্তি কয়েক মিনিট স্থায়ী হতে পারে অথবা কিছুক্ষণ কমে গিয়ে আবার ফিরে আসতে পারে।

শুধু বুকেই নয়, অস্বস্তি শরীরের অন্য অংশেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। এক বা দুই হাত, কাঁধ, পিঠ, ঘাড়, চোয়াল কিংবা পেটের ওপরের অংশে ব্যথা বা অস্বস্তি অনুভূত হতে পারে।

এর সঙ্গে শ্বাসকষ্ট, ঠান্ডা ঘাম, মাথা ঘোরা, দুর্বল লাগা, বমি বমি ভাব বা বমির মতো উপসর্গও দেখা দিতে পারে। কারও ক্ষেত্রে অস্বাভাবিক ক্লান্তি বা সামান্য পরিশ্রমেই হাঁপিয়ে যাওয়াও সতর্ক সংকেত হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সবার ক্ষেত্রে হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ একই রকম নাও হতে পারে। বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে বুকের ব্যথার পাশাপাশি শ্বাসকষ্ট, অস্বাভাবিক ক্লান্তি, বমি বমি ভাব, পিঠ বা চোয়ালে অস্বস্তির মতো তুলনামূলক কম পরিচিত উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

লক্ষণ দেখা দিলে কী করবেন?

বুকে চাপ বা ব্যথার সঙ্গে শ্বাসকষ্ট, ঠান্ডা ঘাম, মাথা ঘোরা বা শরীরের অন্য অংশে ব্যথা ছড়িয়ে পড়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়। কাজ বন্ধ করে বসে বা আধশোয়া অবস্থায় বিশ্রাম নেওয়া এবং দ্রুত জরুরি চিকিৎসা সহায়তা চাওয়া প্রয়োজন।

ভারতে জরুরি পরিস্থিতিতে ১১২ নম্বরে ফোন করে সাহায্য চাওয়া যেতে পারে। সম্ভব হলে অ্যাম্বুলেন্সের মাধ্যমে হাসপাতালে যাওয়া নিরাপদ। এমন পরিস্থিতিতে আক্রান্ত ব্যক্তি নিজে গাড়ি চালিয়ে হাসপাতালে যাওয়ার চেষ্টা করবেন না।

কেউ যদি আগে থেকেই হৃদরোগের জন্য চিকিৎসকের দেওয়া নাইট্রোগ্লিসারিন ব্যবহার করে থাকেন, তাহলে চিকিৎসকের নির্দেশ অনুযায়ী সেটি গ্রহণ করতে পারেন। অন্যদিকে, নিজের সিদ্ধান্তে ওষুধ খাওয়ার পরিবর্তে জরুরি পরিষেবা বা চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

আক্রান্ত ব্যক্তি অচেতন হয়ে গেলে এবং স্বাভাবিকভাবে শ্বাস না নিলে আশপাশের প্রশিক্ষিত ব্যক্তি CPR শুরু করতে পারেন এবং জরুরি পরিষেবার নির্দেশনা অনুসরণ করতে পারেন।

লক্ষণ কমে গেলেও কি হাসপাতালে যেতে হবে?

অনেক সময় বুকের অস্বস্তি কিছুক্ষণ পর কমে যেতে পারে। কিন্তু তাই বলে বিপদ কেটে গেছে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ কখনও আসা-যাওয়া করতে পারে। তাই সন্দেহজনক উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের মূল্যায়ন প্রয়োজন।

হাসপাতালে সাধারণত রোগীর উপসর্গ ও শারীরিক অবস্থা মূল্যায়নের পাশাপাশি ECG এবং রক্তে হৃদপেশির ক্ষতির নির্দিষ্ট চিহ্ন, যেমন troponin, পরীক্ষা করা হতে পারে। প্রয়োজন অনুযায়ী আরও পরীক্ষা করা হয়।

আগে থেকে কি হার্ট অ্যাটাক নিশ্চিতভাবে বোঝা সম্ভব?

শুধু শরীরের লক্ষণ দেখে আগে থেকেই নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয় যে কারও হার্ট অ্যাটাক হবে। কিছু মানুষের ক্ষেত্রে আগে সতর্ক সংকেত দেখা যায়, আবার কারও ক্ষেত্রে কোনও স্পষ্ট পূর্বলক্ষণ থাকে না।

তবে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, উচ্চ কোলেস্টেরল, ধূমপান, স্থূলতা, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা এবং পরিবারে হৃদরোগের ইতিহাসের মতো বিষয়গুলো হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ, ধূমপান এড়িয়ে চলা, স্বাস্থ্যকর খাবার এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকা ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা : বুকের চাপ বা ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, ঠান্ডা ঘাম, অস্বাভাবিক দুর্বলতা কিংবা ব্যথা হাত, পিঠ, ঘাড় বা চোয়ালে ছড়িয়ে পড়লে সেটিকে সাধারণ গ্যাস বা ক্লান্তি ভেবে অপেক্ষা না করে দ্রুত জরুরি চিকিৎসা নেওয়াই নিরাপদ।

- Advertisement -

এই রকম আরও

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here


- Advertisement -

সাম্প্রতিক খবর

- Advertisement -