বর্ষায় চুল পড়া রুখতে কী করতে হবে? জেনে নিন বিশেষজ্ঞদের গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ

- Advertisement -

বর্ষাকালে বাতাসে আর্দ্রতা, ঘাম, অতিরিক্ত তেল, খুশকি এবং দীর্ঘসময় ভেজা চুল থাকার কারণে চুল পড়া ও চুল ভেঙে যাওয়ার সমস্যা বাড়তে পারে। তাই স্ক্যাল্প পরিষ্কার রাখা, বৃষ্টিতে ভেজার পর চুল শুকানো, ভেজা চুলে চিরুনি না করা এবং টাইট হেয়ারস্টাইল এড়ানো জরুরি। পাশাপাশি পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে। অস্বাভাবিকভাবে চুল পড়লে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

বর্ষায় চুল পড়া রুখতে কী করতে হবে? জেনে নিন বিশেষজ্ঞদের গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ

বর্ষা মানেই একদিকে স্বস্তির বৃষ্টি, অন্যদিকে চুল ও ত্বকের নানা সমস্যা। আর্দ্রতা বেড়ে যাওয়ায় এই সময়ে অনেকেরই মাথার ত্বকে ঘাম, অতিরিক্ত তেল, খুশকি এবং চুলকানির সমস্যা দেখা দেয়। তার সঙ্গে বৃষ্টিতে চুল ভিজে যাওয়া, দীর্ঘক্ষণ ভেজা চুল থাকা কিংবা ভেজা অবস্থায় চিরুনি করার মতো অভ্যাস চুল ভেঙে যাওয়ার প্রবণতা বাড়াতে পারে। ফলে অনেকের মনে হয়, বর্ষাকালে চুল পড়ার পরিমাণ আগের তুলনায় বেড়ে গিয়েছে।

তবে বর্ষায় চুল পড়া মানেই যে ঋতু পরিবর্তনের কারণে হচ্ছে, তা নয়। চুল পড়ার পিছনে পুষ্টির ঘাটতি, মানসিক চাপ, হরমোনের পরিবর্তন, বংশগত কারণ, স্ক্যাল্পের সমস্যা কিংবা কোনও অসুস্থতাও দায়ী হতে পারে। তাই বর্ষায় চুলের বাড়তি যত্ন নেওয়ার পাশাপাশি অতিরিক্ত চুল পড়ার কারণটিও খুঁজে দেখা জরুরি।

কেন বর্ষায় চুল পড়ার সমস্যা বাড়তে পারে?

বর্ষাকালে বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ বেড়ে যায়। এর ফলে মাথার ত্বক দীর্ঘসময় স্যাঁতসেঁতে থাকতে পারে। ঘাম ও তেলের সঙ্গে ধুলো-ময়লা জমে গেলে স্ক্যাল্পে খুশকি বা চুলকানির সমস্যা বাড়তে পারে। আবার বৃষ্টিতে ভিজে যাওয়ার পর চুল ভালোভাবে না শুকিয়ে রাখলেও স্ক্যাল্পে অস্বস্তি তৈরি হতে পারে।

ভেজা চুল তুলনামূলকভাবে বেশি ভঙ্গুর থাকে। ফলে ভেজা অবস্থায় জোরে চিরুনি করা, ঘষে তোয়ালে দিয়ে শুকানো বা শক্ত করে বাঁধলে চুল ভেঙে যেতে পারে। অনেক সময় এই চুল ভাঙাকেও অতিরিক্ত চুল পড়া বলে মনে হয়।

বৃষ্টিতে ভিজলে কী করবেন?

বর্ষায় বাইরে বেরোনোর সময় ছাতা বা রেনকোট ব্যবহার করা সবচেয়ে ভালো। বৃষ্টিতে মাথা ভিজে গেলে দীর্ঘসময় ভেজা অবস্থায় না রেখে পরিষ্কার জল দিয়ে চুল ও স্ক্যাল্প ধুয়ে নেওয়া যেতে পারে। এরপর নরম তোয়ালে দিয়ে আলতোভাবে জল শুষে নিয়ে স্বাভাবিকভাবে শুকাতে দেওয়া উচিত।

ভেজা চুলে অতিরিক্ত ঘষাঘষি করা ঠিক নয়। একইভাবে খুব গরম হেয়ার ড্রায়ার ব্যবহার করাও চুলের ক্ষতি করতে পারে। প্রয়োজন হলে কম তাপমাত্রায় ও কিছুটা দূরত্ব রেখে ড্রায়ার ব্যবহার করা যেতে পারে।

নিয়মিত পরিষ্কার রাখুন স্ক্যাল্প

বর্ষায় চুল পড়া কমানোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল মাথার ত্বক পরিষ্কার রাখা। ঘাম বা তেল বেশি হলে প্রয়োজন অনুযায়ী নিয়মিত মাইল্ড শ্যাম্পু ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে প্রতিদিন অতিরিক্ত শ্যাম্পু করা বা খুব শক্তিশালী ক্লিনজিং প্রোডাক্ট ব্যবহার করা উচিত নয়।

স্ক্যাল্পে খুশকি থাকলে সেটিকে অবহেলা না করে উপযুক্ত অ্যান্টি-ড্যানড্রাফ শ্যাম্পু ব্যবহার করা যেতে পারে। খুশকির সঙ্গে অতিরিক্ত চুলকানি, লালভাব, ঘা বা স্ক্যাল্পে অন্য কোনও সমস্যা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

ভেজা চুলে চিরুনি নয়

চুল ধোয়ার পর সম্পূর্ণ শুকিয়ে যাওয়ার আগেই চিরুনি করার অভ্যাস অনেকের রয়েছে। কিন্তু ভেজা চুল সহজে টান পড়ে ছিঁড়ে যেতে পারে। তাই চুল কিছুটা শুকিয়ে নেওয়ার পর চওড়া দাঁতের চিরুনি দিয়ে ধীরে ধীরে আঁচড়ানো ভালো।

চুলের জট ছাড়ানোর সময় গোড়া থেকে জোরে টান না দিয়ে নিচের দিক থেকে ধীরে ধীরে জট ছাড়ানো উচিত। এতে অপ্রয়োজনীয় চুল ভাঙা কমানো সম্ভব।

টাইট হেয়ারস্টাইল এড়িয়ে চলুন

বর্ষায় অনেকেই চুলকে সামলাতে শক্ত করে পনিটেল, খোঁপা বা বিনুনি করেন। দীর্ঘসময় ধরে চুলে টান পড়লে চুলের গোড়ায় চাপ তৈরি হতে পারে। তাই চুল খুব শক্ত করে না বাঁধাই ভালো। বিশেষ করে ভেজা চুল শক্ত করে বাঁধা এড়িয়ে চলা উচিত।

খাবারের দিকেও নজর দিন

চুলের সুস্থতার জন্য বাইরে থেকে যত্ন নেওয়ার পাশাপাশি খাবারের দিকেও নজর দেওয়া জরুরি। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত প্রোটিন, আয়রন, জিঙ্ক, ভিটামিন এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি থাকা দরকার।

ডিম, মাছ, ডাল, দুধ ও দই, সয়াবিন, বাদাম, বিভিন্ন শাকসবজি এবং ফল নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে। পর্যাপ্ত জল পান করাও গুরুত্বপূর্ণ। তবে নিজের থেকে অতিরিক্ত ভিটামিন বা সাপ্লিমেন্ট খাওয়া উচিত নয়। কোনও পুষ্টির ঘাটতি আছে বলে সন্দেহ হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।

তেল কি চুল পড়া বন্ধ করে?

চুলে তেল লাগালে চুল কিছুটা নরম ও কন্ডিশনড থাকতে পারে এবং শুষ্কতা কমাতে সাহায্য করতে পারে। কিন্তু তেল মাখলেই চুল পড়ার মূল সমস্যা বন্ধ হয়ে যাবে — এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়।

বিশেষ করে স্ক্যাল্পে খুশকি, অতিরিক্ত তেল বা ফাঙ্গাল সংক্রমণের সমস্যা থাকলে দীর্ঘসময় তেল লাগিয়ে রাখা উল্টো অস্বস্তি বাড়াতে পারে। তাই স্ক্যাল্পের ধরন অনুযায়ী চুলের যত্ন নেওয়া প্রয়োজন।

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ জরুরি?

প্রতিদিন কিছু চুল পড়া স্বাভাবিক। কিন্তু হঠাৎ করে আগের তুলনায় অনেক বেশি চুল পড়তে শুরু করলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত। চুল আঁচড়ানোর সময় বা স্নানের সময় গোছা গোছা চুল উঠে আসা, মাথার কোনও নির্দিষ্ট জায়গায় চুল পাতলা হয়ে যাওয়া, গোলাকার ফাঁকা অংশ তৈরি হওয়া কিংবা স্ক্যাল্পে চুলকানি, লালভাব, ব্যথা বা ঘা থাকলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

এছাড়া কয়েক সপ্তাহ বা কয়েক মাস ধরে চুল পড়ার সমস্যা চলতে থাকলেও শুধুমাত্র তেল বা ঘরোয়া উপায়ের উপর নির্ভর না করে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

বর্ষায় চুল পড়ার সমস্যা সামলাতে সবচেয়ে জরুরি হল স্ক্যাল্প পরিষ্কার ও শুকনো রাখা, বৃষ্টিতে ভেজার পর দ্রুত চুল পরিষ্কার করা, ভেজা চুলে চিরুনি না করা, অতিরিক্ত হিট ও কেমিক্যালের ব্যবহার কমানো এবং পুষ্টিকর খাবার খাওয়া। তবে চুল পড়া যদি অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়, তাহলে কারণ না জেনে নিজে থেকে কোনও চিকিৎসা শুরু না করে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ পথ।

- Advertisement -

এই রকম আরও

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here


- Advertisement -

সাম্প্রতিক খবর

- Advertisement -