JPSC ও JSSC নিয়োগ পরীক্ষায় কথিত অনিয়মের অভিযোগে ঝাড়খণ্ডে ছাত্র ও চাকরিপ্রার্থীদের আন্দোলন ২৪তম দিনে পৌঁছেছে। আজ সরকারের সঙ্গে সপ্তম দফার বৈঠক হওয়ার কথা। ছাত্রদের দাবি, ১৪তম JPSC পরীক্ষা বাতিল, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। সমাধান না হলে পরবর্তী কর্মসূচি আরও জোরদার করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।

নিয়োগ পরীক্ষায় কথিত অনিয়ম, পরীক্ষার স্বচ্ছতা এবং তদন্তের দাবিকে কেন্দ্র করে ঝাড়খণ্ডে ছাত্র ও চাকরিপ্রার্থীদের আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। JPSC ও JSSC-র বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষা নিয়ে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ সোমবার ২৪তম দিনে পৌঁছেছে। দীর্ঘ আন্দোলনের জেরে পরিস্থিতি সামাল দিতে ফের আলোচনার পথে হাঁটল রাজ্য সরকার। আজ, ১৭ আগস্ট, আন্দোলনকারী ছাত্র প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরকারের সপ্তম দফার বৈঠক হওয়ার কথা।
রাঁচির জয়পাল সিং মুন্ডা স্টেডিয়ামকে কেন্দ্র করে কয়েক সপ্তাহ ধরে অবস্থান-বিক্ষোভ, মিছিল এবং অনশন কর্মসূচি চালিয়ে আসছেন ছাত্র ও চাকরিপ্রার্থীরা। তাঁদের অভিযোগ, রাজ্যের বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়ম এবং প্রশ্নপত্র সংক্রান্ত অভিযোগ নিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পরীক্ষার্থীদের দাবি, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনা এবং অভিযোগগুলির নিরপেক্ষ তদন্ত না হলে ভবিষ্যতে সরকারি চাকরির পরীক্ষার উপর প্রার্থীদের আস্থা আরও কমবে।
কী নিয়ে ছাত্রদের আন্দোলন?
আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে JPSC এবং JSSC-র নিয়োগ পরীক্ষা। বিশেষ করে ১৪তম JPSC প্রিলিমিনারি পরীক্ষা বাতিল এবং অভিযোগগুলির তদন্তের দাবি সামনে এসেছে। আন্দোলনকারীরা শুধু পরীক্ষার ফল বা একটি নির্দিষ্ট নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন না; তাঁরা রাজ্যের নিয়োগ ব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার এবং স্বচ্ছতারও দাবি জানাচ্ছেন।
ছাত্র প্রতিনিধিদের আরও দাবি, কথিত অনিয়মের বিষয়ে CBI অথবা বিচারবিভাগীয় তদন্ত করা হোক। তাঁদের বক্তব্য, তদন্ত যদি স্বাধীন কোনও সংস্থার মাধ্যমে হয়, তাহলে অভিযোগের সত্যতা নিয়ে পরীক্ষার্থীদের মধ্যে তৈরি হওয়া সন্দেহ দূর করা সম্ভব হবে।
আন্দোলনকারীদের দাবি অনুযায়ী, নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগের পাশাপাশি ভবিষ্যতে পরীক্ষা পরিচালনার পদ্ধতি আরও স্বচ্ছ করা প্রয়োজন। প্রশ্নপত্র তৈরি, পরীক্ষা পরিচালনা, ফল প্রকাশ এবং নিয়োগের প্রতিটি ধাপে জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবিও আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।
ছয় দফা আলোচনার পরেও সমাধান হয়নি
সরকার এবং আন্দোলনকারী ছাত্রদের মধ্যে ইতিমধ্যেই একাধিক দফায় আলোচনা হয়েছে। কিন্তু সেই বৈঠকগুলিতে চূড়ান্ত সমাধান না হওয়ায় আন্দোলন প্রত্যাহার করা হয়নি। ৯ আগস্টের আগের বৈঠকেও কোনও স্থায়ী সমঝোতা হয়নি বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এবার তাই নতুন করে আলোচনায় বসার উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য প্রশাসন।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আন্দোলনকারীদের ১৭ আগস্ট আলোচনায় অংশ নেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এবারের বৈঠকে ছাত্র প্রতিনিধিরা তাঁদের আইনজীবী বা আইনি পরামর্শকদের সঙ্গে নিয়ে অংশ নিতে পারবেন বলেও জানানো হয়েছে। সরকারের এই পদক্ষেপকে দীর্ঘদিন ধরে চলা অচলাবস্থা কাটানোর নতুন চেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অনশন ঘিরেও উদ্বেগ
আন্দোলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হয়ে উঠেছে অনশন কর্মসূচি। ছাত্রনেতা দেবেন্দ্রনাথ মাহাতোসহ আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন অনশন করছেন। দীর্ঘ সময় ধরে অনশন চলায় আন্দোলনকারীদের শারীরিক অবস্থা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ফলে আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমাধান বের করার উপর চাপ আরও বাড়ছে।
আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, শুধু আলোচনা করলেই হবে না; তাঁদের মূল দাবিগুলি নিয়ে সরকারকে স্পষ্ট সিদ্ধান্ত নিতে হবে। অন্যদিকে সরকারের পক্ষ থেকে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের চেষ্টা অব্যাহত রাখা হয়েছে।
২০ আগস্ট ঘেরাও কর্মসূচির হুঁশিয়ারি
আলোচনার পাশাপাশি আন্দোলনকারীরা তাঁদের পরবর্তী কর্মসূচির কথাও ঘোষণা করেছেন। দাবি পূরণ না হলে মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের বাসভবন ঘেরাও করার পরিকল্পনা রয়েছে। বিভিন্ন সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে ২০ আগস্টকে সম্ভাব্য বড় কর্মসূচির দিন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে কিছু প্রতিবেদনে সময়সীমা ও কর্মসূচির তারিখ নিয়ে ভিন্ন তথ্যও প্রকাশিত হয়েছে।
১৬ আগস্ট রাঁচিতে আন্দোলনকারীরা মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন এবং কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী-সহ রাজনৈতিক নেতাদের কুশপুতুল পোড়ানোর কর্মসূচি পালন করেন। আন্দোলনকারীদের একাংশের অভিযোগ, সরকার তাঁদের দাবির প্রতি যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছে না। এই কর্মসূচির পর পরিস্থিতি আরও রাজনৈতিক মাত্রা পেয়েছে।
সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ
ঝাড়খণ্ড সরকারের সামনে এখন মূল চ্যালেঞ্জ হল ছাত্রদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে এমন একটি সমাধান বের করা, যাতে একদিকে পরীক্ষার্থীদের আস্থা ফেরানো যায় এবং অন্যদিকে চলমান নিয়োগ প্রক্রিয়ার আইনি ও প্রশাসনিক দিকও বজায় থাকে।
সরকার ইতিমধ্যেই কয়েকটি পরীক্ষার বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। কিন্তু আন্দোলনকারীরা আরও বিস্তৃত দাবি সামনে রেখে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। তাঁদের মতে, বিচ্ছিন্নভাবে কয়েকটি পরীক্ষা নিয়ে সিদ্ধান্ত নিলে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না।
এখন সবার নজর ১৭ আগস্টের সরকার-ছাত্র বৈঠকের দিকে। সপ্তম দফার আলোচনায় যদি গ্রহণযোগ্য সমাধানের সূত্র বেরিয়ে আসে, তাহলে দীর্ঘদিনের আন্দোলন শান্ত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। কিন্তু ফের কোনও সমঝোতা না হলে ২০ আগস্টকে ঘিরে আন্দোলন আরও বড় আকার নিতে পারে।

