অমরনাথের বরফের শিবলিঙ্গ দ্রুত গলে যাচ্ছে, প্রকৃত কারণ কী?

- Advertisement -

অমরনাথ গুহায় প্রাকৃতিকভাবে তৈরি হওয়া বরফের শিবলিঙ্গ এ বছর প্রত্যাশার তুলনায় দ্রুত গলে যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, তুলনামূলক বেশি তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাতের পরিবর্তন এবং বিপুল সংখ্যক তীর্থযাত্রীর উপস্থিতির কারণে গুহার অভ্যন্তরের পরিবেশে পরিবর্তন ঘটেছে। তবে প্রশাসন তীর্থযাত্রা অব্যাহত রেখেছে এবং পরিস্থিতির ওপর নিয়মিত নজরদারি করছে।

অমরনাথের বরফের শিবলিঙ্গ দ্রুত গলে যাচ্ছে, প্রকৃত কারণ কী?

২০২৬ সালের অমরনাথ যাত্রায় বহু তীর্থযাত্রী গুহায় পৌঁছে স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক ছোট, এমনকি প্রায় সম্পূর্ণ গলে যাওয়া বরফের শিবলিঙ্গ দেখে হতাশ হয়েছেন। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, যাত্রা শুরুর প্রথম সপ্তাহেই প্রাকৃতিক বরফের শিবলিঙ্গের ৯০ শতাংশেরও বেশি অংশ গলে যায়। তবে এর প্রকৃত কারণ নিয়ে নানা জল্পনা তৈরি হলেও বিজ্ঞানীরা বিষয়টিকে মূলত প্রাকৃতিক ও পরিবেশগত কারণের সমন্বিত ফল বলেই ব্যাখ্যা করছেন।

অমরনাথের শিবলিঙ্গ কোনও মানুষের তৈরি মূর্তি নয়। এটি গুহার ছাদ থেকে ফোঁটা ফোঁটা জল ঝরে হিমাঙ্কের নিচের তাপমাত্রায় জমে তৈরি হওয়া একটি প্রাকৃতিক বরফের স্তম্ভ (Ice Stalagmite)। ফলে এর আকার প্রতি বছর একই রকম থাকে না। শীতকালে কতটা তুষারপাত হয়েছে, গুহার অভ্যন্তরের তাপমাত্রা, আর্দ্রতা, বায়ুপ্রবাহ এবং বাইরের আবহাওয়ার ওপর এর বৃদ্ধি ও স্থায়িত্ব নির্ভর করে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এ বছর দ্রুত গলে যাওয়ার সবচেয়ে বড় কারণ অস্বাভাবিক উষ্ণ আবহাওয়া। কাশ্মীর অঞ্চলে গ্রীষ্মের শুরুতেই তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি ছিল এবং শীতকালে তুষারপাতও তুলনামূলক কম হয়েছে। ফলে গুহার ভেতরের প্রাকৃতিক শীতল পরিবেশ দীর্ঘদিন বজায় থাকেনি। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব হিমালয়ের বহু হিমবাহ ও বরফগঠনের ওপর পড়ছে, অমরনাথও তার ব্যতিক্রম নয়।

আরও একটি কারণ হিসেবে গবেষকরা উল্লেখ করছেন, বিপুল তীর্থযাত্রীর উপস্থিতি। এ বছর কয়েক লক্ষ ভক্ত অল্প সময়ের মধ্যেই গুহায় পৌঁছেছেন। মানুষের শরীরের তাপ, আলো, যাতায়াত এবং অন্যান্য কার্যকলাপ গুহার অভ্যন্তরের ক্ষুদ্র জলবায়ুকে কিছুটা উষ্ণ করে তুলতে পারে। যদিও বিজ্ঞানীরা মনে করেন, এটিই একমাত্র কারণ নয়; বরং উচ্চ তাপমাত্রা ও কম তুষারপাতের সঙ্গে এটি মিলিত হয়ে গলনের গতি বাড়িয়েছে।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এটি একেবারে নজিরবিহীন ঘটনা নয়। অতীতেও ২০০৪, ২০০৬, ২০০৭, ২০১৬, ২০২০ এবং ২০২৪ সালের মতো কয়েকটি বছরে শিবলিঙ্গ স্বাভাবিক সময়ের আগেই ছোট হয়ে গিয়েছিল। ফলে শুধুমাত্র এ বছরের ঘটনাকে অলৌকিক বা অস্বাভাবিক বলে ব্যাখ্যা করা সঠিক হবে না। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলিতে দ্রুত গলে যাওয়ার প্রবণতা বাড়ছে বলে বিশেষজ্ঞরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

এদিকে অমরনাথে লঙ্গর পরিচালনাকারী সংগঠন শ্রী অমরনাথ বারফানি লঙ্গরস অর্গানাইজেশন (SABLO) ঘটনাটির বৈজ্ঞানিক তদন্তের দাবি জানিয়েছে। তাদের বক্তব্য, প্রাকৃতিক বরফের শিবলিঙ্গ এবং গুহার নাজুক পরিবেশ রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি পরিবেশগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।

সব মিলিয়ে বলা যায়, অমরনাথের বরফের শিবলিঙ্গ দ্রুত গলে যাওয়ার পেছনে কোনো একক কারণ নয়; বরং জলবায়ু পরিবর্তন, কম তুষারপাত, অস্বাভাবিক উষ্ণতা, গুহার অভ্যন্তরের পরিবেশগত পরিবর্তন এবং বিপুল সংখ্যক তীর্থযাত্রীর উপস্থিতি—এই সবকটির সম্মিলিত প্রভাব কাজ করছে। ধর্মীয় বিশ্বাসের মর্যাদা অটুট রেখেই বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই পবিত্র তীর্থক্ষেত্রের প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণই ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি মোকাবিলার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

- Advertisement -

এই রকম আরও

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here


- Advertisement -

সাম্প্রতিক খবর

- Advertisement -