FAST-DS 2026 : বিদেশে গোপন সম্পদ প্রকাশের এককালীন সুযোগ ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত

- Advertisement -

বিদেশে অপ্রকাশিত সম্পদ ও আয় স্বেচ্ছায় প্রকাশের জন্য ভারত সরকার FAST-DS 2026 চালু করেছে। ১৬ আগস্ট থেকে কার্যকর এই প্রকল্পে যোগ্য করদাতারা ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত বিদেশি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, বিনিয়োগ ও সম্পত্তির তথ্য ঘোষণা করতে পারবেন। নির্ধারিত কর বা ফি পরিশোধ করলে আইনি জটিলতা কমানোর সুযোগ মিলবে।

FAST-DS 2026 : বিদেশে গোপন সম্পদ প্রকাশের এককালীন সুযোগ ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত
Global finance and overseas asset disclosure concept.

বিদেশে থাকা অপ্রকাশিত সম্পদ ও আয় স্বেচ্ছায় প্রকাশের জন্য এককালীন সুযোগ চালু করেছে ভারত সরকার। কেন্দ্রীয় প্রত্যক্ষ কর পর্ষদ (CBDT) ঘোষিত Foreign Assets of Small Taxpayers Disclosure Scheme (FAST-DS), 2026 আজ থেকে কার্যকর হয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় নির্দিষ্ট যোগ্যতার করদাতারা আগামী ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত বিদেশে থাকা গোপন সম্পদ, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, বিনিয়োগ ও আয়ের তথ্য সরকারকে জানাতে পারবেন।

সরকারের মতে, এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য কর ফাঁকিকে উৎসাহ দেওয়া নয়; বরং যেসব ব্যক্তি অতীতে ভুলবশত বা অনিচ্ছাকৃতভাবে বিদেশি সম্পদের তথ্য আয়কর রিটার্নে উল্লেখ করেননি, তাঁদের জন্য একটি আইনসম্মত সংশোধনের সুযোগ তৈরি করা। আন্তর্জাতিক আর্থিক তথ্য বিনিময় ব্যবস্থার ফলে বিদেশে রাখা আর্থিক সম্পদের তথ্য এখন অনেক সহজে ভারতের কর কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছায়। ফলে স্বচ্ছ কর ব্যবস্থা গড়ে তুলতে এই প্রকল্পকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

FAST-DS 2026 কী?

FAST-DS 2026 হল অর্থ আইন, ২০২৬-এর অধীনে চালু হওয়া একটি বিশেষ স্বেচ্ছা ঘোষণা প্রকল্প। এর মাধ্যমে বিদেশে অবস্থিত নির্দিষ্ট ধরনের অপ্রকাশিত সম্পদ ও আয় ঘোষণা করা যাবে। আবেদন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ অনলাইনে সম্পন্ন হবে এবং সম্পদের মূল্য নির্ধারণ করা হবে ৩১ মার্চ ২০২৬-এর ন্যায্য বাজারমূল্যের (Fair Market Value) ভিত্তিতে।

সরকার জানিয়েছে, সঠিক তথ্য দিয়ে সম্পদ ঘোষণা ও নির্ধারিত অর্থ পরিশোধ করলে যোগ্য আবেদনকারীরা অতিরিক্ত জরিমানা এবং কিছু ক্ষেত্রে ফৌজদারি আইনি ঝুঁকি থেকে নির্দিষ্ট সুরক্ষা পেতে পারেন। তবে যাঁদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই কর তদন্ত, তল্লাশি বা বিচারাধীন মামলা রয়েছে, তাঁরা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না।

কোন ধরনের সম্পদ ঘোষণা করা যাবে?

এই প্রকল্পে বিদেশে থাকা বিভিন্ন ধরনের আর্থিক ও স্থাবর সম্পদ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—

  • বিদেশি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট
  • শেয়ার, বন্ড ও অন্যান্য সিকিউরিটিজ
  • বিদেশে অবস্থিত বাড়ি, ফ্ল্যাট বা জমি
  • গয়না ও মূল্যবান ধাতু
  • শিল্পকর্ম ও মূল্যবান সংগ্রহ
  • বিদেশি কোম্পানিতে আর্থিক অংশীদারিত্ব
  • বিদেশে অর্জিত কিন্তু ভারতে অপ্রকাশিত করযোগ্য আয়

যেসব সম্পদের তথ্য আগে ভারতীয় আয়কর রিটার্নে উল্লেখ করা হয়নি, সেগুলি নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রকাশ করা যাবে।

দুই ধরনের সুবিধা, দুই রকম অর্থপ্রদান

FAST-DS 2026 প্রকল্পে করদাতাদের জন্য দুটি পৃথক ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। –

প্রথম বিভাগে পড়বেন সেইসব ব্যক্তি, যাঁদের বিদেশি সম্পদ বা আয় কখনও ভারতে করের আওতায় আনা হয়নি। এ ক্ষেত্রে মোট সম্পদের মূল্য ১ কোটি টাকার মধ্যে হলে ৩০ শতাংশ কর এবং সমপরিমাণ অতিরিক্ত অর্থ প্রদান করতে হবে। অর্থাৎ কার্যকরভাবে মোট ৬০ শতাংশ অর্থ জমা দিয়ে সম্পদ নিয়মিত করা যাবে।

দ্বিতীয় বিভাগটি তাঁদের জন্য, যাঁরা বৈধ কর-পরিশোধিত আয় থেকে বিদেশে সম্পদ অর্জন করেছিলেন অথবা অনাবাসী (NRI) অবস্থায় সম্পদ কিনেছিলেন, কিন্তু ভারতীয় আয়কর রিটার্নে বিদেশি সম্পদের বিবরণ উল্লেখ করেননি। এই ক্ষেত্রে সম্পদের মোট মূল্য ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত হলে মাত্র ১ লক্ষ টাকা নির্দিষ্ট ফি দিয়ে ঘোষণা করা যাবে। তবে ৫ কোটির বেশি মূল্যের সম্পদের ক্ষেত্রে এই সুবিধা প্রযোজ্য হবে না।

কারা আবেদন করতে পারবেন?

সরকারের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এই প্রকল্প মূলত ক্ষুদ্র করদাতাদের জন্য তৈরি করা হয়েছে। বিদেশে চাকরি করে দেশে ফিরে আসা ব্যক্তি, বিদেশে পড়াশোনা করা শিক্ষার্থী, তথ্যপ্রযুক্তি পেশাজীবী কিংবা যাঁদের রিপোর্টিংয়ে অনিচ্ছাকৃত ত্রুটি হয়েছে, তাঁরা যোগ্যতার শর্ত পূরণ করলে আবেদন করতে পারবেন।

তবে প্রকল্পটি সকলের জন্য উন্মুক্ত নয়। যাঁদের বিরুদ্ধে ব্ল্যাক মানি আইন বা অন্য কর আইনের অধীনে ইতিমধ্যেই তদন্ত বা আইনি ব্যবস্থা শুরু হয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে এই সুযোগ সীমিত থাকবে। তাই আবেদন করার আগে নিজের যোগ্যতা যাচাই করা জরুরি।

কীভাবে হবে আবেদন?

আবেদন সম্পূর্ণ অনলাইন পদ্ধতিতে গ্রহণ করা হবে। করদাতাকে নির্ধারিত Form-1 পূরণ করে বিদেশি সম্পদের বিবরণ, মূল্যায়ন সংক্রান্ত নথি এবং প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্র জমা দিতে হবে। এরপর আয়কর বিভাগ নথি যাচাই করে প্রদেয় অর্থ নির্ধারণ করবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থ জমা দেওয়ার পর সফল আবেদনকারীদের বৈধ ঘোষণার শংসাপত্র প্রদান করা হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদেশি সম্পদের সঠিক মূল্যায়ন এবং প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুত করতে একজন চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট বা কর পরামর্শকের সহায়তা নেওয়া বাঞ্ছনীয়। এতে আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা কমে এবং আইনি জটিলতাও এড়ানো যায়।

কেন গুরুত্বপূর্ণ এই উদ্যোগ?

গত কয়েক বছরে আন্তর্জাতিক আর্থিক তথ্য বিনিময় ব্যবস্থার আওতায় ভারত বহু দেশের সঙ্গে তথ্য আদান-প্রদান শুরু করেছে। ফলে বিদেশি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, বিনিয়োগ বা আর্থিক সম্পদ গোপন রাখা আগের তুলনায় অনেক বেশি কঠিন হয়ে উঠেছে। অনেক ক্ষেত্রেই ইচ্ছাকৃত কর ফাঁকির পরিবর্তে রিপোর্টিংয়ের ভুল বা অসচেতনতার কারণে বিদেশি সম্পদের তথ্য বাদ পড়ে যায়।

কর বিশেষজ্ঞদের মতে, FAST-DS 2026 সেই ধরনের করদাতাদের জন্য একটি বাস্তবসম্মত সংশোধনের সুযোগ। নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে স্বেচ্ছায় তথ্য প্রকাশ করলে ভবিষ্যতের আর্থিক ও আইনি ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হবে। একই সঙ্গে সরকারের লক্ষ্য হলো স্বচ্ছতা বৃদ্ধি, কর-সম্মতি জোরদার করা এবং বৈধ আর্থিক ব্যবস্থার প্রতি নাগরিকদের আস্থা আরও শক্তিশালী করা।

গুরুত্বপূর্ণ তারিখ

বিষয়তারিখ
প্রকল্প কার্যকর১৬ আগস্ট ২০২৬
আবেদন শুরু১৬ আগস্ট ২০২৬
ঘোষণার শেষ তারিখ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬
সম্পদের মূল্যায়নের ভিত্তি৩১ মার্চ ২০২৬

সরকারের আশা, এই এককালীন স্বেচ্ছা প্রকাশ প্রকল্প বিদেশে থাকা অপ্রকাশিত সম্পদকে বৈধ কর কাঠামোর আওতায় এনে কর ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি আরও শক্তিশালী করবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যোগ্য করদাতাদের আবেদন করার আহ্বানও জানানো হয়েছে।

- Advertisement -

এই রকম আরও

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here


- Advertisement -

সাম্প্রতিক খবর

- Advertisement -